| |

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শ্রীবরদী শাখা এখন দালালদের নিয়ন্ত্রণে!!

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শ্রীবরদী শাখা এখন নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় দালাল চক্র। ব্যাংক ম্যানেজার মুশফিকুর রহমানের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় প্রতারক দালাল চক্রটি অভিনব ফাদ পেতে ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা যায়, শ্রীবরদী শাখা ব্যাবস্থাপক হিসেবে মুশফিকুর রহমান যোগদানের পর থেকেই দালাল নাদের, কাজী, মুগা, হেজবুল্লাহ, আমিনুল, কলম, আরাফাত, সাদা, দিদারুল, আইয়ুব আলী, নরেন, কালাম, বারীক, লুচুসহ ১৫-২০ জন প্রান্তিক দালাল নিয়ে শক্তিশালী দালাল চক্রটি ব্যাংক অভ্যান্তরে বাসা বেধে বসেছে। এনিয়ে বিগত দিনগুলোতে একাধিক সংবাদপত্রে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশের পরও রহস্যজনক কারণে দালাল নিয়ন্ত্রণে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারের ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের মাঝে দ্রুত পৌছে দেওয়ার সফল উদ্যোগটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি শ্রীবরদী কৃষি ব্যাংকে। শাখা ব্যবস্থাপকের বাড়ি স্থানীয় এলাকায় হওয়ায় নিজেকে সাদামনের মানুষ পরিচয় দিয়ে মুশফিকুর রহমান অত্র ব্যাংকে দালাল দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। প্রান্তিক কৃষকরা ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যাংকে ঋণ গ্রহণ করতে এসেও দালালদের হাতে বার বার নাজেহাল হচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষক ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ না নিয়ে চড়া সুধে দাদনের টাকা নিয়ে ফসল উৎপাদন করে আজ দাদান ব্যাবসায়ীদের চড়া সুধে দাদন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। একাধিক সুত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা ১৭ কোটি ৩৬ লক্ষ ও ঋণ প্রদানের লক্ষ্য মাত্রা ১১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ থাকলেও প্রজাতন্ত্রের এই ব্যাংক ম্যানেজার তা বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করে আসছে। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে প্রতিদিন ব্যাংক খোলা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাংক অভ্যন্তরে ফাঁদ পেতে বসে থাকে দালালদের বিশাল একটি অংশ। আর এ দালাল চক্রের সাথে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দহরম বহরম থাকায় সু-কৌশলে ব্যাংকের কর্তা ব্যক্তিরা দালালদের কাছে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের পাঠিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, মুশফিকুর রহমান পূর্বের কর্মস্থল নলজোরা শাখায় কর্মরত থাকাবস্থায় অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। ব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান স্থানীয় হওয়ায় এলাকার প্রভাবে শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে তোলে ঋণ আদায়ের ৪-৬ গুণ ঋণ প্রদান করছে এবং ব্যাপক হারে নতুন ঋণ প্রদান করছে যা ব্যাংকের ঋণ খেলাপির সম্ভাবনা বিদ্যমান। এছাড়াও শক্তিশালী দালালচক্রের মাধ্যমে ব্যাংকে ঋণ নিতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি এক লক্ষ টাকায় নগদ বিশ থেকে পচিশ হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। ব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান ও স্থানীয় ব্যাংকারদের এহেন কার্যকলাপে একদিকে ব্যাংকের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্তসহ দালালচক্রের হাতে সর্বশ হারাচ্ছে। এ বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান দালালের উপস্থিতি স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদের অনেককে দিয়ে চা আনা ও অন্যান্য কাজ করানো হয়। তাদের সাথে ব্যবস্থাপকের স্বার্থে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক স্বার্থই থাকতে পারে। এ বিষয়ে মূখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ লুৎফর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দালাল মুক্ত থাকবে এটাই আমাদের কাম্য। তবে আমি যখন শ্রীবরদী শাখা অফিসে যাই তখন তো দালালকে দেখতে পাই না। তিনি আরো বলেন, পূর্বে শ্রীবরদী কৃষি ব্যাংকের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল তবে বর্তমানে অনেকাংশে ভাল হয়েছে। দুর্নীতি গ্রস্ত ব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান ও স্থানীয় জড়িত থাকা ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই ব্যাংকে দালালমুক্ত ও সকল দুর্নীতি বন্ধ হবে এমন প্রত্যাশায় শ্রীবরদীর সচেতন মহল সহ সংশ্লিষ্ট সকলের।