| |

কেন্দুয়ায় আওয়ামীলীগের জনসভায় এমপি পিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন নেতারা

মো: মহিউদ্দিন সরকার : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে তৃণমুল নেতাকর্মীদের এক মত বিনিময় সভা শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। মত বিনিময় সভায় তৃণমূলের সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী উস্থিতিতে নেত্রকোনা ০৩, আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনবিচ্ছন্নসহ অনেক অভিযোগ তুলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। মোজাফরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলগের সভাপতি মো: দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জনতা ব্যাংকের পরিচালক আওয়ামীলীগ নেতা নাগিবুল ইসলাম দিপু। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মানিক ভাইকে মঞ্চে উপস্থিত রেখে আমি প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করতে পারি না। তিনি আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই। তাছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার কাছে আমরা অনেক ঋনী। প্রধান বক্তা হিসাবে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখছেন নেত্রকোনা ০৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মো: সাইদুর রহমান মানিক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন তার সেই স্বপ্ন বিফল হয়েছে। ঢাকা আইনজীবি সমিতিতে সেদিন থাকে আমরা অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছিলাম তার কৃতকর্মের জন্য। তিনি ভেবে ছিলেন আদালতে এ সব ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনাসহ ১শ ৫৪ জন সংসদ সদস্যকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবেন। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো এত সহজ নয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীদের পক্ষে বলেন, এই মোজাফরপুর ইউনিয়ন থেকেই এমপি পিন্টুর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়েছিল। এখন তার কৃতকর্মের জন্য এই ইউনিয়ন থেকেই পতন ঘটবে। তিনি বলেন, আগাম বন্যায় জালিয়ার হাওড় ও সুনই বিলের শত শত কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ অনেক নেতা কৃষকদের পাশে এসে দাড়ালেও এমপি পিন্টু ফসল হারা এসব মানুষের খোজখবরও নিয়ে আসেনি। মোজাফরপুর ইউনিয়নে এক ইঞ্চি রাস্তাও পাকা হয়নি। এমপি পিন্টু বলেন, তিনি কোন টাকা খান না। আমি বলি টাকা খাওয়ার জিনিস না। টাকা পকেটে তোলার বিষয়। কেন্দুয়া ডিগ্রী কলেজে নিয়োগ দিকে ১ কোটি টাকার উপরে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। ভরাপাড়া মাদ্রাসায় নিয়োগ দিয়ে টাকা নিয়েছেন। এখন বলেন উনি টাকা খান না। তার সঙ্গে আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটি কোন নেতা নেই। কারণ এই চার বছরে এক দিনের জন্যও দলীয় কার্যালয়ে তিনি জাননি। এমনকি খোজখবর নেননি। জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, আমি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী পক্ষে অনুরোধ জানাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিন্টু সাহেবের মত কলাগাছ মার্কা লোকদের মনোনয়ন দেবেন না। তাহলে নৌকার ভরাডুবি হবে। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা ০৩ আসনের এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর সঙ্গে রোববার বেলা একটা পনের মিনিটে মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর চৌধুরীর দেয়া ব্যক্তবের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী একজন অসুস্থ্য মানুষ, তার কথা কানেও নেই না শুনতেও চাইনা কিছু বলতেও চাইনা। তার যা যা ইচ্ছা তাই বলুক আপনারা যা পারেন তা লিখেন। আমি আর কথা বাড়াতে চাই না। মোজাফুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মত বিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকগণ।