| |

বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে বিপাকে আ’লীগ, স্বস্তিতে বিএনপি

জিএম সাফিনুর ইসলাম মেজর , ঃ  পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতেই দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের। গত ১২ নভেম্বর বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ এবং আগামি ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শুরু হয়েছে পৌর নির্বাচনের ভোটের হিসাব-নিকাশ । আগামী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা রকম কানাঘুষা। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিভিন্ন উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার, সামাজিক কর্মকান্ড ও ধর্মীয় সভাতে যোগদান করে নিজেদের সাধারণ জনগণের কাছে জানান দিচ্ছেন। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা যার যার মত কাজ করে যাচ্ছে। দোয়া ও আশির্বাদ নেয়ার নামে ভোটারদের কাছে যাওয়া আসা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। চায়ের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দশ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে আছেন। তারা যার যার অবস্থান থেকে তাদের মনোনীত দলের হয়ে নির্বাচন করবেন এবং দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র থেকেও কেউ কেউ নির্বাচন করতে পারে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী রয়েছেন সাত জন।
তারা হলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঐতিহ্যবাহী তালুকদার পরিবারের দ্বিতীয় ছেলে ইসমাইল হোসেন তালুকদার (বাবুল তালুকদার) , উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, পৌর যুবলীগের আহবায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএম নুরুজ্জামান , উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম, ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বাহাদুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মোফাখ্খার হোসেন খোকন। বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফকরুজ্জামান মতিন। এছাড়াও মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মোজাহারুল ইসলাম ভিমল ও উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি সোলাইমান হক ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা । পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জেলা ও কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের সাত সম্ভাব্য প্রার্থী।
২০১৩ সালে পৌরসভা গঠনের পর এবারই প্রথম নির্বাচন হবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার। তাই এ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। একাধিক প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত একক প্রার্থী নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিন। সংসদীয় আসনে (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আওয়ামী লীগের এমপি আবুল কালাম আজাদ বার বার জয়ী হলেও স্থানীয় এই নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতর চরম গ্রুপিং দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদটি দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে পড়েছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীদের ধারণা পৌর নির্বাচনে যোগ্য একজন প্রার্থী দিলে মেয়র পদে জয়ী হওয়া সম্ভব। আর প্রার্থী নির্বাচনে ভুল করলে খেসারত দিতে হবে আওয়ামী লীগকে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুল বিশাল বাহিনী নিয়ে মাঠে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তালুকদার পরিবারের সন্তান হিসেবে শহরে প্রভাব প্রতিপত্তি রয়েছে পারিবারিক ভাবেই। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন বাবুল তালুকদার। দলকে এগিয়ে নিতে তিনি ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন বাবুল তালুকদার। তাকে দলীয় প্রতীক নৌকা দিলে আওয়ামী লীগকে মেয়র হিসেবে দেখবে পৌরবাসী। ক্লিন ইমেজের এই প্রার্থী মনোনয়ন পেলে শতভাগ বিজয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তার সমর্থকরা। মেয়র প্রার্থী ইসমাইল হোসেন বাবুল তালুকদার জানান, দলে আমার ত্যাগ ও এলাকায় জনসমর্থনের উপর ভিত্তি করে দলীয় মনোনয়ন আমি পাওয়ার আশাবাদী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় দলে সক্রিয় ও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দুই বারের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত সাইফুল ইসলাম বিজয় দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং করে যাচ্ছেন। গুরত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকায় নৌকা প্রতীক তিনিই পাবেন এমন প্রত্যাশা তার। মাঠে কাজ করছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম । ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করতে মাঠে ঘাটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের নেত্রীদের সঙ্গে তার সু সম্পর্ক থাকায় তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকরা স্বস্তিতে রয়েছে। মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পৌর যুবলীগের আহবায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগর। নিজের মেধা তীক্ষèতা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তরুনদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক কর্মী বাহিনী । নির্বাচনী মাঠে তাকে হিসেব করেই সবাইকে আসতে হবে তার সমর্থকরা এমনটাই মনে করেন। বসে নেই উপজেলা তাঁতী লীগের আহবায়ক ও ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি আনোয়ার হেসেন তালুকদার বাহাদুর । সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। করছেন উঠান বৈঠকও। সব ঠিক থাকলে আওয়ামী লীগের দলীয় টিকিট তিনি পাবেন এমন আশাবাদ তার কর্মীদের । উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএম নুরুজ্জামান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সম্পাদক মোফাখ্খার হোসেন খোকন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী মোজাহারুল ইসলাম ভিমল। নিজ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সমর্থিত প্রার্থী সোলাইমান হক।
প্রার্থীদের প্রচারণায় আমেজ বিরাজ করছে ভোটারদের মধ্যেও । অনেকের দাবি দলীয় মনোনয়নে এবারও ভুল করলে পৌর মেয়র পদটিও হারাতে পারে আওয়ামী লীগ । অন্যদিকে বিএনপির একক প্রার্থী থাকায় নিশ্চিন্তে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের টিকিট কে কে পাবেন তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। সময় এলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। মনোনয়ন যাকেই দেয়া হোক না কেন স্থানীয় জনগণ কাজের মানুষকে বেছে নেবেন এমন কথা সবাই বলছেন।