| |

ফুলবাড়িয়া কলেজ ট্রাজেডির দিনে শোক র‌্যালী স্মরণসভা ও মিলাদ

ফুলবাড়িয়া ব্যুরো অফিস : গতকাল ২৭ নভেম্বর ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কলেজ (অনার্স কলেজ) ট্রাজেডির এক বছর পূর্তিতে কলেজ মিলনায়তনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের উদ্যোগে কালোব্যাজ ধারন, শোক র‌্যালী, স্মরণসভা ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সহকর্মী ও শুভাকাক্ষীরা।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: আবুল কালাম এর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সাবেক উপদেষ্টা চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: কে. আর ইসলাম, গভর্ণিং সদস্য ও পৌর আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক মো: গোলাম মোস্তফা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ বি সিদ্দিক, জাতীয় পার্টি নেতা জামাল উদ্দিন সরকার, কলেজ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যাপক এস এম আবুল হাশেম, অধ্যাপক মো: ফজলুল হক, অধ্যাপক মো: রুহুল আমিন, অধ্যাপক গাউছুর রহমান, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক এটিএম মহসীন শামীম, প্রভাষক জিল্লুর রহমান প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক এ.কে.এম মাসুদুল আলম লিটন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজহারুল আলম রিপন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অছেক বিল্লাহ শামীম, জাতীয় ছাত্র সমাজের হাবিবুল্লাহ হাবিব, কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবুল হাসনাত জনি, ছাত্রদল নেতা আলামিন সাদত প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন অধ্যাপক হাফেজ মো: রুহুল আমিন। স্মরণ সভা পরিচালনা করেন অধ্যাপক মো: রুহুল আমিন।
একটি ঘরে স্মরণ সভা আয়োজন করায় ছাত্ররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন জীবন উৎসর্গকারীদের সাথে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে তার জবাব চান ছাত্ররা। বক্তারা বলেন, কোন আন্দোলনই কখনোই বৃথা যায় না, ফুলবাড়ীয়া কলেজ সরকারিকরণ আন্দোলনে শিক্ষকসহ দু’জনের আত্মত্যাগ বৃথা যাতে যেতে পারে না। ‘কালাম স্যারের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা সম্বলিত কালো টি শার্ট পড়ে শিক্ষক-কর্মচারী, গভর্ণিং বডির সদস্য, সাবেক ছাত্র, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়। র‌্যালী শেষে কলেজের মূল (গেইট) ফটকে কিছুক্ষণ অবস্থান করলে ফুলবাড়ীয়া-ময়মনসিংহ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত বছর এ দিনে উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ফুলবাড়িয়া কলেজ (অনার্স) জাতীয়করণ আন্দোলনে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলাকালে আহত কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পথচারী ছফর আলীসহ দু’জন নিহত হয়েছিল এবং ঐ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক আহত হয়েছিল।
এ দিনটিকে প্রথমবারের মতো কালো দিবস হিসেবে পালন করছে কলেজ শিক্ষক শিক্ষর্থীরা।