| |

গৌরীপুরে যুবলীগের সম্মেলনের মঞ্চে আগুন, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, ১৪৪ ধারা জারি ॥ এমপির কুশপুত্তলিকা দাহ

শফিকুল ইসলাম মিন্টু : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৪বছর ৪মাস পর অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে মঞ্চে আগুন ও ইউএনও’র সরকারি বাসাসহ শহরের পাঁচটি স্থানে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুবৃর্ত্তরা। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বঙ্গবন্ধু চত্বরে নির্মিত যুবলীগের সম্মেলন মঞ্চে আগুন দেয় দুবৃর্ত্তরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে শহরের পৃথক পাঁচটি স্থানে বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সম্মেলন মঞ্চ ও এর আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৪ বছর ৪মাস ৩দিন পর বৃহস্পতিবার (৩০নভেম্বর) উপজেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলন আয়োজনের লক্ষে পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়।
কিন্তু বুধবার গভীর রাতে সম্মেলেন মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দুবৃর্ত্তরা। খবর পেয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা আগুন নিভিয়ে পুনরায় মঞ্চ তৈরি করে। এঘটনার পর একদল দুর্বৃত্ত পৃথক পৃথক সময় সিনেমা হল রোড মোড়, স্টেশন রোড মোড়, বালুয়াপাড়া মোড়, কলীপুর মধ্যম তরফ মোড় ও ইউএন’র সরকারি বাসায় পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে শহরে আতংক ছড়ায়। এঘটনার পর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গবন্ধু চত্বর, হারুণপার্ক ও এর আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এদিকে দুপুর ২টায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে যুবলীগের সভাপতি সানাউল হকের নেতৃত্বে একাংশের নেতা-কর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় এমপি নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। মিছিল শেষে পৌর শহরের কালিখলায় এমপি নাজিমের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
তবে দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ থাকলেও প্রশাসন একটি পক্ষের ইন্ধনে সম্মেলনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সানাউল হক বলেন, নাজিম উদ্দিন এমপি মহোদয়ের প্রভাব খাটিয়ে ১৪৪ ধারা জারি সম্মেলন বানচাল করেছেন। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছি। অচিরেই সম্মেলন না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
স্থানীয় এমপি নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি সম্মেলনের পক্ষে ছিলাম। সম্মেলন হলে নতুন নেতৃত্বে বেড়িয়ে আসতো। স্থানীয় যুবলীগের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় সম্মেলন মঞ্চে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমি প্রভাব খাটিয়ে সম্মেলন বন্ধ করেছি এমন অভিযোগ সত্য নয়। আর নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক তপন সাহা বলেন, আগুনে মঞ্চের একাংশ পুড়ে গেছে। সম্মেলন আয়োজন না হওয়ায় আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। জেলা নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলে সম্মেলন স্থগিত করেছেন। সাংগঠনিক আলোচনা শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মর্জিনা আক্তার বলেন, আমার বাসায় পেট্রল বোমা হামলায় দেয়ালের অংশ পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের সংঘর্ষ হতে পারে পুলিশের এমন প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১৪৪ ধারা করা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহমদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে যুবলীগের সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রুপের দ্বন্দের জের ধরে পেট্রল বোমা নিক্ষেপের ঘটনাগুলো ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার জড়িতেদের খোঁজে বরে করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
বর্তমানে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।