| |

গৌরীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে বেড প্লান্টা ও সিডার যন্ত্রের প্রদর্শণী ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

এই যন্ত্রে জমি চাষ করে মই দিয়ে ও বীজ বপন করে শেষ করবে ‘সিডার ও বেড প্লান্টার’ মেশিন। এতে করে ৭৫শতাংশ কম খরচে ফসল উৎপাদন করতে পারবে কৃষক। শ্রমিক সংকট ও কালক্ষেপন থেকেও কৃষককে মুক্তি দিবে এ যন্ত্র ।
বোকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুল্লাহর সভাপতিত্বে খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় পাওয়ার টিলার চালিত বেড প্লান্টার ও সিডার যন্ত্রের প্রদর্শণী ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আব্দুল মাজেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. মো. সাদিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ময়মনসিংহ খামার বাড়ির কৃষি প্রকৌশলী কৃষিবিদ তাপস কুমার তালুকদার, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল ইসলাম, ডিকেআইবির সভাপতি আনিসুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
এ যন্ত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে অভিভূত হয়ে যন্ত্রটিকে ‘ম্যাজিক যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে কৃষকরা বলেন, যেখানে জমি প্রস্তুত বীজ বপনে ৬/৭দিন সময় লাগতো। এখন তো দেখি একঘন্টায় সব হয়ে যাচ্ছে, মনে হয় যাদুমন্ত্রের মতো কাজ করছে এই যন্ত্র।
প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আব্দুল মাজেদ বলেন, মানুষের খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও কৃষি জমি ও শ্রমিক কমছে। তাই দ্রুত সময়ে কম শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই।
ময়মনসিংহ খামার বাড়ীর কৃষি প্রকৌশলী কৃষিবিদ তাপস কুমার তালুকদার বলেন, এক ঘন্টায় এক বিঘা জমি চাষ, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, লেভেলিংয়ে খরচ হয় ২শ ৫০টাকা। এটা শ্রমিক দিয়ে করলে কৃষকের খরচ হতো প্রায় ৮শ টাকা। কৃষকের উৎপাদন খরচ বাঁচবে প্রায় ৭০শতাংশ। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাদিকুর রহমান বলেন, বেড প্লান্টার যন্ত্র দিয়ে গম, ভুট্টা, আলু, মুগ, তিলসহ দানাদার বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ সফলভাবে বপন করা যায়। এ যন্ত্র দিয়ে ১-২ চাষে বেড তৈরী, সার প্রয়োগ ও বীজ বপনের কাজ একই সংগে করা যায়। এতে শ্রম, অর্থ, বীজ ও সারের সাশ্রয় হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সিডার নিখুঁত লাইন আর বেড প্লান্টার নিখুঁত বেড তৈরি করে, মূলত অনুরূপ সাশ্রয়ী যন্ত্র। দু’টি যন্ত্রের বীজবপন প্রদর্শনীর মাধ্যমে দাড়িয়াপুর গ্রামে গম বীজ ও পৌর শহরের বাড়িওয়ালাপাড়ায় কৃষক সৈয়দ ওমর ফারুক রাসেলের জমিতে সরিষা বীজ বপন করা হয়।
একই দিন অপর একটি মাঠ দিবর ও প্রদর্শণীতে প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি কৃষকদের আখ্যায়িত ম্যাজিক যন্ত্রের প্রর্দশনী মাঠের উদ্বোধন করে বলেন, তিনবারের চাষ, একবার মই দেয়ার পরও চাক্কা ভাঙা, বীজ বপনে সময় লাগতো ২দিন। কৃষি বিজ্ঞানীদের আবিস্কার একবারেই এখন কৃষক সব পাচ্ছেন।