| |

ফুলবাড়ীয়ায় ৩দিনের বৃষ্টিতে সবজি ও আমনে কৃষকরা হতাশাগ্রস্থ

মো: আব্দুস ছাত্তার : টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সবজি বাগান, বোরো ধানের বীজতলা ও আমন ধান মাড়াই এ হতাশা বিরাজ করছে কৃষকদের মধ্যে। গতকাল সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা হতাশার কথা জানান।
মাঠের কৃষকরা জানিয়েছেন এবার আমন আবাদ-ঘরে উঠা পর্যন্ত বার বার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সকল কিছু উপেক্ষা করে আমরা আমন ধান ও গো খাদ্য (খড়) মাড়াই নিয়ে মহাব্যস্ত ঠিক তখন গত ৩দিনের ঘুরি ঘুরি বৃষ্টিতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ধানের বাজার আলোর মুখ দেখায় আমরা অনেকটাই খুশি ছিলাম। গত কয়েক বছর যাবত ধান বিক্রি করে মাড়াইয়ের মুজুরী দিতে হতো, এবার ধানের খড় (নাড়া) ধান ক্ষেত থেকে বিক্রি করে মাড়াইয়ের মুজুরী হয়েও সঞ্চয় হয়। শীতের এ বৃষ্টিতে কৃষকরা কাক ভেজার ন্যায় ধান উত্তোলন করে বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ীতে নেয়া ধান তারা মাড়াই ও শুকানো কোনটাই করতে পারছে না। অনেক নিচু জমিতে পানি জমে গেছে।
এদিকে বোরো ধানের অনেক নিচু বীজতলা উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বোরো ধানের বীজ নিয়ে আগাম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৫-১০ভাগ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষক আজগর আলী জানান, প্রতিকাঠা ধান মাড়াই (কর্তন) বাবদ ৮০০/- টাকা খরচ হলেও আমরা স্বচ্ছন্দে দিচ্ছি কারণ খড়, প্রতি কাঠা ১ হাজার টাকা বিক্রি করছি।
হোছেন আলী জানান, এ সময়ে বৃষ্টিতে মাঠের সকল ধান শুয়ে পড়েছে, ক্ষেতে পানি জমে গেছে আর যেগুলো মাঠে শুয়ানো ছিল সেগুলোর ধান গজিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সবজি খ্যাত বাক্তা, কালাদহ, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। ভরা মৌসুমে তিনদিনের বৃষ্টিতে সবজির মুকুল মাটিতে ঝড়ে পড়ছে। গোল আলুর অঙ্কুরোদগম না হওয়ায় শংকা দেখা দিতে পারে ফলনে। উঠবে না বিনিয়োগকৃত টাকা। অনেক স্থানে সবজির মাচা হেলে গিয়ে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ফলন। কাঁচা রাস্তায় কর্দমাক্ত হওয়ায় কৃষক তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু জাহিদ মো: আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ, কৃষকের মনোবল শক্ত, বৃষ্টির সময়সীমা যদি বৃদ্ধি না পায় তবে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে কৃষক।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমন ৮৮ভাগ ধান কর্তন হয়ে গেছে এর মধ্যে ৮৬ভাগ কৃষক ঘরে ধান উত্তোলন করেছে ২ভাগ মাঠে ছড়িয়ে আছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড. নাছরিন আক্তার বানু জানান, কৃষকরা তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি কিছু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে সে ক্ষতি কৃষক পুষিয়ে নিতে পারবে।