| |

ছোট বাজার মুক্তমঞ্চে তৃতীয় দিনের আলোচনায় বক্তাগন স্বাধীনতার সুফল পেতে দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে হবে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর ছোট বাজার মুক্তমঞ্চে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন গতকাল ১২ (ডিসেম্বর) (মঙ্গলবার) বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচকগন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্যই বিশ্বে সবচেয়ে কম সময় অর্থাৎ মাত্র ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে বলেই এদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনারদেশ। চেতনা বলতে বুঝায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর চার মূলমন্ত্র গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। যে যেখানে বা যে দেশেই থাকুক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের পরিচয় বাঙ্গালী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতা। বাঙ্গালী ছাড়া আর কোন পরিচয় এদেশবাসীর নেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক জনযুদ্ধ, সশস্ত্র যুদ্ধ, বিশ্বজনীন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ভারত, রাশিয়া সহ অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশ (চীন ছাড়া), উন্নত দেশ সহযোগিতা করেছে। দেশের আপামর জনগনেরও ছিল স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন। অথচ পৃথিবীর কোন দেশের কোন একজন নাগরিকও তাদের জাতি বা জাতির পিতার বিরুদ্ধাচরণ না করলেও অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জাজনক যে স্বাধীন এই বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক এই দেশ জাতি ও জাতির পিতার বিরুদ্ধে কথা বলেন। পাকিস্তান ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য তারা বঙ্গবন্ধুকে দোষারূপ করেন। আলোচকগন আরো বলেন, একক কোন ব্যক্তি কোন একটি দেশকে ভাঙতে পারেন না। সার্বিক বৈষম্যের শিকার এদেশের আপামর জনগন অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে একটি জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। সুতরাং পাকিস্তান ভাঙ্গার মূল কারণ ছিল এদেশের মানুষের প্রতি পাক শাসকগোষ্ঠীর স্মৃষ্ট বৈষম্যই। বক্তরা বলেন, এদেশের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার জন্য পরাজিত পাক হানাদারদের এদেশীয় দোসররা থেমে থাকেনি। ওরা ষড়যন্ত্র করে, স্বাধীনতার মাত্র ৪ বছরের মাথায় ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ও পরবর্তীতে জেল খানায় জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করে আমাদের চেতনা ও স্বাধীনতাকে মুছে দিতে পাকিস্তানী ভাবধারায় দেশ পরিচালনা করতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ ২১ বছর পর জাতিরজনকের কন্যার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দেশ আবার সঠিক পথে পরিচালিত হতে থাকে। দেশের বহু সমস্যা সমাধান করে এই সরকার দেশের ও দেশের মানুষের ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছে এই অবস্থায় বিরোধীরাও থেমে নেই। ওরা ফের অঘটন ঘটানো অপচেষ্টায় মেতে আছে। ওদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়া যায় না তাই আসুন আজ দেশবাসী অনিয়ম দুর্নীতির উর্দ্ধেউঠে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আসন্ন নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে নির্বাচিত করে। স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হবে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি জাতীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শরীফ আহমেদ, প্রধান আলোচক বাকৃবি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, আলোচক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মনিরা সুলতানা মনি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আনছার আলী। আলোচনা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাজহারুল ইসলাম রতন ও গোলাম মোস্তফা শামীম। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরান ও গীতা থেকে পাঠ করা হয়। আলোচনা শেষে চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।