| |

কিশোরগঞ্জে গবাদি পশুর পুষ্টি খাদ্যের নামে প্রিমিক্স বাজারজাত লাইসেন্সের আড়ালে তৈরি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক ওষুধ

নজরুল ইসলাম খায়রুল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে গবাদি পশুর পুষ্টি খাদ্যের নামে প্রিমিক্স বাজারজাত লাইসেন্সের আড়ালে তৈরি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক ওষুধ। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ওষুধ বাণিজ্য। এসব ভূয়া ওষুধ কারখানার ওষুধ ব্যবহারের ফলে দেশের প্রাণি সম্পদ বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ এসব ভূয়া ওষুধ কারখানার ওষুধ উৎপাদনে যোগসাজস রয়েছে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সংশ্লিষ্টদের। ফলে ভূয়া ওষুধ ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জেলা প্রানি সম্পদ অফিস সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পরিচালিত হচ্ছে এসব ওষুধ কারখানা। সরেজমিনে বিভিন্ন ওষুধ কারখানার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী কোম্পানীগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ (ল্যাবরেটরি) নেই। নেই কোন কারখানার অবকাঠামোগত ভবন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পয়ঃ নিস্কাশন ব্যবস্থাসহ বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা। নীতিমালা অনুযায়ী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কারখানা মালিকরা তার তোয়াক্কা করছেনা। এসব কয়েকটি ওষুধ কারখানার মধ্যে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের সাইদুর রহমানের লিডার এগ্রো ফার্মা, সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের আর এস ফার্মা, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার খরমপট্টির মানিক রায়ের মৌ এগ্রোভেটসহ এ রকম বিভিন্ন নামে জেলায় প্রায় ২৫টি ওষুধ কারখানা গড়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোম্পানীগুলোর উৎপাদিত ওষুধের মধ্যে পুষ্টি প্রিমিক্সসহ বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। এর মধ্যে লিডার এগ্রো ফার্মার ইনাফ্লক্স, ইনাট্রিম, মাইক্রোডক্স। আরএস ফার্মার রুনাল প্লাসসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন ভূয়া এন্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কোম্পানীর মালিক জানান, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদেরকে উৎকোচ দিয়েই এসব কারখানাগুলো পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এসব ভূয়া কোম্পানীর ওষুধ ব্যবহার করে ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ৩০টি গবাদি পশু মারা গেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাটোয়ারপাড় এলাকার আবুল কাসেমের ৪টি গরু, কাশোরারচর গ্রামের ২টি ও বিন্নাটিতে ১টি গরু মারা যায়। এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে সাধারণ খামারীগণ তাদের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী মারা যাওয়ায় নিরুৎসাহী হয়ে পড়ছে।