| |

দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বাড়িঘর ও জনপদ বিলীন

মোঃ মোহন মিয়া : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মেঘালয় কন্যা সোমেশ্বরী নদীর অব্যাহত বাঙ্গনের কবলে পরে প্রায় ৫’শ ঘরবাড়ী ও জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতি মধ্যে শতবছর বয়সী রানীখং চার্চ (গীর্জা) ও রানীখং মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয় একতৃতীয়াংশ নদীভাংনে বিলীন হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিহয়েছে শিবগঞ্জবাজার হতে বিজয়পুর সীমান্তে যাওয়ার সড়ক। এ ছাড়া নদী ভাঙ্গনে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের পৌর এলাকার অনেক জায়গা নদীর গর্ভে চলে গেছে। প্রতি বছরই বর্ষায় নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দুর্গাপুরের মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ কয়লা, সাদামাটি , মোটাবালি আর সিলিকন বালির জন্য বিখ্যাত এবং পর্যটন শিল্পের জন্য সম্ভাবনাময় দুর্গাপুর । জানা গেছে, নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে সড়ক রক্ষার জন্য নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে শীবগঞ্জ এবং ডাকুমারা এলাকার কিছু অংশ পাকা ব্লক দিয়ে বাঁধ দিলেও বছর যেতে না যেতেই ব্লক ধ্বসে পড়ে এবং ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এরপর আর সড়ক রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওই সমস্ত এলাকার শত শত বাড়ি ঘর এখন সোমেশ্বরীর ভাঙ্গনের হুমকির মূখে রয়েছে। যে কোন সময় বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হতে পারে। বর্ষাকাল এলেই ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যায়। আর তখনি এলাকা বাসীন্দাদের দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যায়। দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী কুল্লাগড়া, ডাকুমারা এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ, ডাকুমারা বাজার অনেক অংশ ভেঙ্গে গেছে। শিবগঞ্জ বাজার থেকে কুল্লাগড়া পর্যন্ত রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। এলাকাবাসী জানান, তারা রাতের বেলায় ভয় আর আতংকের মধ্যে থাকেন। কারন, কখন নদীর তীর ভেঙ্গে যাবে। হারিয়ে যাবে তাদের বাড়ি ঘর। প্রতিবছর যে হারে এই ইউনিয়নের সড়ক, বাড়িঘর সোমেশ্বরীর কারনে ভাঙ্গছে, এক সময় শীবগঞ্জ বাজার এবং ডাকুমারা সড়কের কোন চিহ্নই থাকবে না। দুর্গাপুরের বিজয়পুর গ্রামের বাবুল মিয়া ও বহেড়াতলী গ্রামের প্রখ্যাত বালু ব্যাবসায়ী মোঃ আলাল মিয়া সংবাদ কে বলেন, আমাদের এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি। অনায়াসে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু এদিকে কারো কোন খেয়াল নেই। সোমেশ্বরীর ভাঙ্গনে আমাদের প্রিয় দুর্গাপুর ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সড়ক, বাড়িঘর এবং আবাদি অনাবাদী জমি। দুর্গাপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা মানবাধিকার কর্মী ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় আমাদের দুর্গাপুরের কোন উন্নয়ন হলনা। এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান সংবাদ কে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধটি পুনঃসংস্কার করার জন্য বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী ও ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস এক সাক্ষাতে এই প্রতিবেদক কে জানান, সোমেশ্বরী নদীর ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি সংসদেও উত্থাপন করবো। জনপ্রিয় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখহাসিনার হস্থক্ষেপ কামনা করছেন দুর্গাপুর বাসী।