| |

নান্দাইলে সহায়ক শিক্ষা বই পাঠ্যের নামে গাইড বই কিনতে বাধ্য করছে ছাত্রছাত্রীদের

ইছমত আরা বেগম : নান্দাইল উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই এবং নোট গাইড কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক সমিতির সরবরাহ করা সহায়ক বইয়ের তালিকা অনুযায়ী বই কিনতে বলছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আর সেসব সহায়ক বই কিনতে গিয়ে চড়া দামে দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক ও বেসরকারী লাইব্রেরীর পরিচালকদের মধ্যে এক ধরনের সুসর্ম্পেকর কারণেই বিভিন্ন গাইড বই চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। তবে সহায়ক শিক্ষা হিসাবে বাজারে প্রচলিত এইসব বই নোট গাইড শিক্ষার্থীদের জন্য কতখানি সহায়ক সেটি বিচার করারও সুযোগ নেই অভিভাবকদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়ে সন্তানদের হাতে বইগুলো তুলে দিচ্ছে তারা। আরেক শিক্ষার্থী জানায়, সহায়ক বই তো কিনতেই হবে। কারণ ক্লাসে তো স্যাররা ওইসব বই থেকে পড়া দিচ্ছেন। আরেক অভিভাবক বলেন, সরকার ফ্রি বই দেয়ার পরও যদি হাজার টাকায় আমাদের সহায়ক বই কিনতে হয় তাহলে সরকারের ফ্রি বই শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন না। এজন্য আমাদের বাচ্চাদের সহায়ক বই কিনতে বাধ্য করাচ্ছেন। এক অভিভাবক বলেন, একসেট সহায়ক গাইড বই কিনতে হাজারের ওপরে টাকা লাগছে। কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত এক অভিভাবক বলেন, আমার মতো কৃষকরা ছেলেমেয়ের বই কিনতে বড়ই চাপে আছে। এদিকে বই কিনতে গিয়েও আরেক বিড়ম্বনায় পড়ছেন অভিভাবকরা। প্রতি শ্রেণির সেট ছাড়া পৃথকভাবে (একক বই) কোনো বই বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুকন উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এধরনের সহায়ক বই, নোট গাইড বই সরকারী নীতিমালায় সম্পূর্ণ অবৈধ। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করে লাইব্রেরীগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। তবে আমার পরামর্শ ‘শিক্ষকরা যেন মূল পাঠ্যপুস্তক পড়ে তাদের মেধার বিকাশ ঘটতে পারে এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আলাদাভাবে গাইড বই কেনার প্রয়োজন নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, খোঁজ নিয়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। নোট গাইড / সহায়ক পাঠ্য বই সরকারী নীতিমালায় নিষেধ করা আছে।