| |

গফরগাঁওয়ে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

মানছুর আহমেদঃ ২০১৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গফরগাঁও উপজেলা এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত বোর্ড ফির চেয়ে দ্বিগুন ফি আদায় করায় বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র অভিভাবকেরা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরীক্ষা ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনোক্রমেই অতিরিক্ত ফি নেয়া যাবে না। কিন্তু বোর্ডের আর্দেশ নির্দেশনাকে কোনো তোয়াক্কা না করে গফরগাঁও উপজেলা মাধ্যমিক ও দাখিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে ২০১৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরনে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিষয় ফি ৮৪০ টাকা, ব্যবহারিক ফি ১৫০,মার্কসীট ফি ৩৫,সনদ ফি ১০০, শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫.কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকাসহ মোট ১ হাজার ৪৪৫ টাকা, মানবিক শাখার ফি ১ হাজার ৩৫৫ টাকা, দাখিল ১ হাজার ৬০০টাকা নিধারিত ফি হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে। যার যার মতো করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইচ্ছা মাফিক ফি আদায় করা হচ্ছে। এ প্রতিনিধি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্কুল ও মাদ্রাসা গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলা এবার এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরনে একেক স্কুলে ও একেক মাদ্রাসায় একেক ধরনের অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পযর্ন্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। ফি আদায়ের ক্ষেত্রে কারো সাথে কারো কোনো মিল নেই। গফরগাঁও উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৫টি আর মাদ্রাসার সংখ্যা ৬৪টি। ঐ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফরম পূরন করতে আসা শিক্ষার্থীদের হাতে ১০-১২টি খাত দেখিয়ে লম্বা ফিরিস্তি ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন খাতও তালিকায় জুড়ে দেয়া হচ্ছে ফির নামে টাকা আদায়ের স্বার্থে। স্কুল ও মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা জানান, ফরম পূরনের ফি বাবদ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে ফি নিচ্ছে। খাত হিসাবে তাদের তালিকায় আছে,বোর্ড ফি, টিফিন ফি, বিদ্যুৎ বিল, মসজিদ চাদাঁ, শিক্ষক কল্যান ফি, মডেল টেষ্ট ফি, মিলাদ ফি, কেন্দ্র ফি, কোচিং ফি, চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী ফি, ডিসেম্বর মাস পযর্ন্ত বেতন ফি। সব মিলিয়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে ফি আদায় করছে। এসব বিষয়ে চরমসলন্দ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা কোনো বাড়তি টাকা নিচ্ছি না। যা নিচ্ছি প্রয়োজনেই নিচ্ছি। আরো অন্যান্য প্রসঙ্গ তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ে এড়িয়ে যান। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক প্রধান শিক্ষক বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ডের সব নিদের্শ মেনে চললে বিদ্যালয় বিক্রি করে বাড়ি চলে যেতে হবে। এ দিকে পরীক্ষাথীদের ওপর নানা সমস্যা আসতে পারে এমন আশংকায় নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষুব্দ অভিভাবক জানিয়েছেন, পরীক্ষা ফরম ফিলাপ নিয়ে শিক্ষকরা যেভাবে বানিজ্য শুরু করেছেন তাতে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে আসছে। সরকার সেখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তুকি দিচ্ছে আর বিদায় মুহুর্তে সে সুযোগে টাকা কামানোর মিশনে নেমেছেন শিক্ষকেরা। চরমসলন্দ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী তানিয়া আক্তারের অভিভাবক দিন মজুর রুবি খাতুন এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার মেয়েকে স্কুলের শিউলি ম্যাডাম বলে দিয়েছে ৪ হাজার টাকা না দিলে ফরম পূরন হবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেলাল হোসেন বলেন, স্কুল ও মাদ্রাসায় ফরম পূরনের এবং অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি আমাদের অধিনন্ত না । এটা বোর্ড কতৃপক্ষের। এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত শংকর কুন্ডু বলেন, স্কুল ও মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি আমার নলেজে নেই। যদি অভিযোগ পাই তবে ফি ভাবে ফরম পূরন করা হবে। খোজঁ খবর নিয়ে দেখি অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে কি না কেউ যদি নিয়ে সাথে সাথে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।