| |

ভালুকায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার স্ত্রী হাসপাতালে

কামরুল এসসান চন্দনঃ স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করার পর আদালত থেকে আপস মিমাংসার মাধ্যমে স্ত্রীকে কৌশলে বাড়ি নেয়ার কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো যৌতুকের দাবিতে নির্যাতণ শুরু করে পাষন্ড স্বামী। নির্যাতনের শিকার আহত স্ত্রী শিলা আক্তারকে (২৩) ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহর ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের শিরিরচালা ধুলিকুড়ি গ্রামে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধুলিকুড়ি গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে চার বছর পূর্বে একই উপজেলার খোলাবাড়ি গ্রামের ফজর আলীর মেয়ে শিলা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যৌতুকের টাকার জন্য পারিবারিক কলহ চলছিল। ইতোমধ্যে পিতার কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা এনে স্বামীর হাতে দেয়া হয়। এরই মাঝে তাদের সংসার জীবনে ইব্রাহিম (৩) নামে তাদের একটি ছেলে সন্তানের জম্ম হয়। পারিবারিক চরমমাত্রায় পৌছলে নিরুপায় হয়ে স্ত্রী শিরিন আক্তার দুই বচর পূর্বে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের মামলা করেন। কিন্তু যৌতুকলোভী রফিকুল স্ত্রীকে বিভিন্ন ছলনায় ভুলিয়ে আদালত থেকে আর নির্যাতন করবেন না বলে আপস মিমাংসার লিখিত দিয়ে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। বুধবার বিকেলে স্বামী রফিকুল ইসলাম স্ত্রী শিলা আক্তারকে এলাপাতারী কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে আহত অবস্থায় বাড়িতে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে শিলার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন ।
নির্যাতনের শিকার শিলা আক্তার জানান, ৫২ হাজার টাকা দেয়ার পর আরো টাকার জন্য আমার উপর প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করা হয়েছে। আমার দরিদ্র পিতার পক্ষ্যে আর টাকা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলে ঘটনারদিন আমাকে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিলার পিতা ফজর আলী বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে ।