| |

ভালুকায় সাইনবোর্ড ও পিলার স্থাপন করে লাউতি খাল ও বনবিভাগের জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা  ঃ ভালুকায় কতিপয় প্রভাবশালী ঐতিহ্যবাহী লাউতি নদীটির বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে সীমাণাপিলার স্থাপন করে দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি হবিরবাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদ উপজেলার পাড়াগাঁও মৌজার আউলাতলী গ্রামে অবৈধভাবে লাউতি খালের ও বিশাল গজারী গাছ ঘেরা বনবিভাগের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড ও সীমাণাপিলার স্থাপন করেছেন বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
সরেজমিন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত রশিদ ফিলিং স্টেশনের মালিক প্রভাবশালী আব্দুর রশিদ পাড়াগাঁও মৌজার বনবিভাগের দাবিকৃত ৮২ নম্বর দাগসহ বেশ কয়েকটি দাগে ঐতিহ্যবাহি লাউতি নদীর পাড় ঘেঁষে প্রায় ১৫ একর জমি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। পরে তিনি লাউতি নদীটির ওই স্থানে বেশিরভাগ অংশ ও কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনবিভাগের জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড ও কয়েক’শ সীমাণাপিলার স্থাপন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, পাশের শ্রীপুর উপজেলা থেকে শুরু হয়ে ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়ন ও হবিরবাড়ির ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে এই লাউতি নদীটি প্রবাহিত । উজান এলাকার মিল ফ্যাক্টরীর বর্জ্র এই নদী দিয়ে খিরু নদীতে গিয়ে পরে। অসাধূ ব্যক্তিদের নজরে পরে নদীটির প্রায় সব অংশই বর্তমানে দখলে চলে গেছে। ফলে এখন এই নদীটি সরু খালে পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি হবিরবাড়ি এলাকার প্রভাবশালী মো: আব্দুর রশিদ এই নদীর আউলাতলী অংশের বেশির ভাগই দখলে নিয়ে সীমাণাপিলার স্থাপন শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে এই নদীটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এতে এ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকীর সম্মুখীন হয়ে জনসাধারণের চরম দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বনবিভাগের কাদিগড় বিটের বিট কর্মকর্তা মো: আবু তাহের বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তিনি বলেন, পাড়াগাঁও মৌজার ৮২ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে ১৭ একর। তার মধ্যে বনবিভাগের রয়েছে তিন একর ভূমি। ওই মৌজায় বনবিভাগের সাথে জনসাধারণের জমির সীমাণা নির্ধারণ করা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে সরজমিন খোঁজ নিয়ে বিষয়টি আমি দেখছি।
অভিযুক্ত জমি ক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, পাড়াগাঁও মৌজার ৮২ নম্বর দাগসহ বেশ কয়েকটি দাগে আমি ১৫ একর জমি ক্রয় করেছি। আরো জমি কেনা হচ্ছে। সীমাণাপিলার স্থাপন করছি খালের পাড় ঘেঁষে তা ঠিক আছে। তবে সরকার যদি খালের মাপ ঠিক করে দেন তবে পিলার উঠিয়ে নিয়ে আমার জমির উপর স্থাপন করবো। বনের জমির উপর সাইনবোর্ডন স্থাপনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি তেমন কোন সদোত্তর দিতে পারননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুদ কামাল জানান, বিষয়টিতো আমার জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি, খাল দখলের মতো কোন ঘটনা থাকলে দখলকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।