| |

ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র সেতুর উদ্বোধনের আগেই ধসে যাচ্ছে ফিনিসিং স্লাব

ইসলামপুর প্রতিনিধি ॥ জামালপুরের ইসলামপুর ১০৪ কোটি টাকা ব্যায়ে নব নির্মিত ব্রহ্মপুত্র সেতুটি উদ্ব্ধোনের আগের সার্ফেসিং স্লাবের ঢালাই (ওয়ারিং কোস) ধসে ও ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে চলাচলকারী জন সাধারন ও এলাকাবাসীর মাঝে স্বপ্নের সেতুতে এমন হওয়ায় কৌতুহল সৃষ্টি সহসংশ্লিষ্ট ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির অভিযোগে চলাচলকারী ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানাগেছে, এলজিইডি বাস্তবায়নে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপ ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। গত ২০১৬ সালের ৬ মার্চ এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও গত ১৭সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকলেও সাধারন মানুষ চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল এর নির্দেশে উন্মূক্ত করা দেওয়া হয়।

কয়েক দিন ধরে সেতুর মাঝ বরাবর একটি স্থানে সার্ফেসিং স্লাবের সিমেন্ট ও পাথরের ঢালাই ধসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। যতোই যানবাহন চলাচল করছে গর্তের আকার ও গভীরতা ততোই বাড়ছে। এতে করে পুরো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

সাধারন জনগন ও যান চলাচল যথারীতি চলাচল করলেও যে কোন মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি পেলে উদ্বোধন দিনক্ষন ঘোষনা করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ঠরা। ঠিক এই সময়ে সেতুটি স্লাবের উপরের অংশ(ওয়ারিং কোস) উঠে যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর ও পথচারীদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ করার কারণেই হয়তো সেতুর স্লাব ধসে ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত মেরামত করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপ সহকারী প্রকৌশলী ্ইউসূফ শাহী জানান, সেতুটির ওয়ারিং কোস একটি স্থানে উঠে যাচ্ছে গিয়ে দেখে এসেছি। তবে এটা বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়। ওই সেতুর ঠিকাদারকে জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অংশটুকু দ্রুত মেরামত করা হবে। সেতুর ওয়ারিং কোসের ওপর দিয়ে চিকন পাথরের ঢালাইয়ের কাজ বাকি আছে। এ ছাড়া সেতুর সার্ফেসিং ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে বিটুমিনের আস্তরন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, এ উপজেলাটি ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনানদী দ্বারা বেস্টিত। যমুনার নদীর ওপারে কুলকান্দি,সাপধরী,বেলগাছা,চিনাডুলী চারটি ইউনিয়নের জনসাধারনের বসবাস। সারা বছর এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা নৌকা। যাতায়ার ব্যবস্থা ভাল না থাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি বললে ভুল হবেনা। উপজেলাটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি যমুনার পশ্চিমাঞ্চল,ইসলামপুর সদর এবং পূর্বাঞ্চলের গাইবান্ধা,গোয়ালেরচর,চর গোয়ালীনি ও চর পুটিমারী।পূর্বাঞ্চলের মানুষগুলো খানাখন্দ রাস্তায় যাতায়াত ও নদীপথ পারি দিয়ে শহরে আসতে দিনের অর্ধেক সময় লেগে যেত।

ঠিক এই সময়ে ইসলামপুরবাসীর ক্লান্তি লগনে প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে ফকিরপাড়া পাইলিং ঘাটে ৫৬০ মিটারদৈর্ঘ্য ১০৪ কোটি টাকা ব্যায়ে সেতুটি গত বছর নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকলেও মানুষ ও যান চলাচল যথারিতি চলছে। সেতুর সাথে যুক্ত ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাকা সড়কও হয়েছে। ইতিমধ্যে পূর্বাঞ্চল বাসির প্রাণের দাবী দুটি সেতুর মাধ্যমে শহর এবং পূর্বাঞ্চল বাসীর মাঝে মিলন মেলা সৃষ্টি হয়েছে।