| |

শ্রমিক সংকটে মদনের কৃষকেরা

মদন প্রতিনিধিঃ শ্রমিকসহ নানামুখি সংকটে হারাঞ্চলের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দৈনিক সর্বোচ্চ ৮শ টাকা পারিশ্রমিক দিয়েও একজন কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
নেত্রকোনার মদনে বিভিন্ন হাওরে এবার বোর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় যথাসময়ে ধান কাটা শেষ হবে কি না তা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে স্থানীয় কৃষক। শনিবার সকালে গোবিন্দশ্রী বাজারে সরজমিনে গেলে শ্রমিক পাওয়ার জন্য একাধিক কৃষক টানাটানি শুরু করার দৃশ্য দেখা গেছে।
এ ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নিয়ে দরকষাকষির সময় নেই। মজুরি যত টাকাই হোক না কেন ফসল ঘরে তুলতে কৃষকের এখন শ্রমিক প্রয়োজন। গত বছর আগাম বন্যায় ছোট বড় ২০/২৫টি হাওরের আধা পাকা, পাকা একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যায়। একমুষ্টি ধানও ঘরে তুলতে পারেনি এসব অঞ্চলের কৃষকরা। সে আতংক এখনও কাটেনি হাওরাঞ্চলের কৃষকদের। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা।
কৃষকরা জানায়, তারা এবার ঋণ করে বোরো আবাদ করেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। অনেকে ধান কাটা শুরু করেছে। কিন্তু কৃষকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি কিংবা আগাম বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ফলস ঘরে তোলা।
এ জন্য তাদের পর্যাপ্ত শ্রমিক দরকার। অন্যান্যবার পাবনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর থেকে শ্রমিক এসে ধান কেটে দিত। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে ঠিক সময়ে ধান কাটা শেষ করা নিয়ে অনেক কৃষক দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় দিনমজুরের সংখ্যাও কম এবং তাদের মজুরিও বেশি।
মাঘান গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া, রাণীহালা গ্রামের কাছুম আলী, ময়না, কাকন, কাচু মিয়া, বেলাল হোসেন, আলাল মিয়া, গোবিন্দশ্রী গ্রামের রহিম মিয়া, ফজর আলী, বজলু মিয়া জানান, এবার ধান ভাল হয়েছে,তবে শ্রমিক পাওয়াই একমাত্র সমস্যা।
আজ বুধবার বালালী বাঘমারা বাজারে শ্রমিক আনতে গিয়েছিলাম সেখানে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে শ্রমিক আনতে হয়েছে। এত চড়া দামে যদি শ্রমিক থাকে তা হলে কি ভাবে ঘরে ধান তুলব? এমনিতেই সরকার এখনও কোন ধান ক্রয় করছেন না। ধান বিক্রি করতে হলে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় প্রতি মন বিক্রি করতে হয়। জরুরী ভিত্তিতে ন্যয্য মূল্যে ধান ক্রয় করার জন্য সরকারের প্রতি আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তা গোলাম রাসুল বলেন, ‘বৈশাখের মধ্যে ধান কাটতে না পারলে শিলা বৃষ্টির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এখানে যে পরিমাণ কৃষিশ্রমিক ও যন্ত্রপাতি রয়েছে, তা দিয়ে এ সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা কঠিন হবে।’ তিনি জানান, এবার এ উপজেলায় ১৭ হাজার ২৫০হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৫ হাজার মেট্রিক টন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালীউল হাসান বলেন, মদন উপজেলায় এবার প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি ফসল রক্ষার বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এখন শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে না পারলে সব আয়োজনই ব্যস্তে যাবে।