| |

মুক্তাগাছার খেরুয়াজানীর শিশু ফরহাদ হত্যা মামলার রায় ৬ জনের ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ড ও ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানী গ্রামের আট বছরের শিশু ফরহাদ হত্যা মামলার এক রায়ে আসামী ৬ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড ও ১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেছেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জহিরুল কবির দীর্ঘদিন ধরে স্বাক্ষ্যপ্রমানাদি গ্রহন, আসামীদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী ও সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র ডকুমেন্ট পর্যালোচনা শেষে দোষ প্রমানিত হওয়ায় গতকাল সোমবার (৯ নভেম্বর) জনাকীর্ন আদালতে উপরোক্ত রায়টি দেন। রায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের সাহেব আলী (পলাতক), কুদ্দুছ, ইব্রাহিম, আঃ মজিদ, মোমতাজ আলি ও জুয়েল। আর যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত হলেন কমলা বেগম।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে প্রকাশ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিগত ২০১০ ইং সালের ৪ মে খেরুয়াজানী গ্রামের আয়ুব আলির পুত্র ফরহাদকে প্রতিবেশী এসব আসামীরা ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। পরে ৭ মে ওই গ্রামেই শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। লাশ পাওয়ার পরই নিহত ফরহাদের পিতা আয়ুব আলি বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় মামলা নং-৬ তাং-০৭/০৫/১০ ইং দায়ের করেন। এই মামলায় আসামী করা হয় অজ্ঞাত ১২/১৩ জনকে। পরবর্তীতে বাদী সন্দেহভাজন ৭ জনের একটি তালিকা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটির পুংখানুপুংখ তদন্ত শেষে ৭ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দেন। এই চার্জশীটে সন্দেহভাজন তালিকার ২ জন আঃ কালাম ও আবু হানিফ বাদ পড়ে। আর অন্তর্ভুক্ত হয় নতুন ২ জন জুয়েল ও কমলা বেগম। আসামীরা হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তিও দেন। সবশেষে মামলাটি বিচারের জন্য উক্ত আদালতে উঠলে বহু কার্যদিবসের পর আদালত গতকাল সোমবার এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি এডভোকেট সুবোধ চন্দ্র সরকার। বাদি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান।