| |

গৌরীপুরে ক্লাস বাদ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের জমিতে ধান কাটছে ও বাড়িতে রান্না করছে

গৌরীপুর সংবাদদাতা ॥
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সোমবার (২৩এপ্রিল) স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বাদ দিয়ে শিক্ষকের জমির ধান কাটানো ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধান কাটায় নিয়োজিত ছাত্রদের খাওয়ানোর জন্য রান্না করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে স্কুল শিক্ষক আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক গৌরীপুর উপজেলার পাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা সবাই পাছার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এলাকায় প্রতি কাঠা জমিতে ধান কাটা ও মাড়াই করতে প্রায় ১৫শত টাকা খরচ হয়। ওই টাকা বাঁচাতেই আবু সাঈদ শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের জমির ধান কাটাচ্ছে। কিন্তু তিনি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদের বাড়ি সহনাটি ইউনিয়নের রাইশিমুল গ্রামে। সে পাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি গ্রামে ‘সমাধান প্লাস’ নামক একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে। ওই কোচিং সেন্টারে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। গত রোববার শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে গেলে আবু সাঈদ শিক্ষার্থীদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ধান ক্ষেতে নিয়ে যায়। পরে সারাদিন শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করায়। গতকাল সোমবার দুপুরে রাইশিমুল গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ৬/৭ জন স্কুল ছাত্রী দুপরের রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত। আর বাড়ির সামনের ধান ক্ষেতে প্রখর রোদের মধ্যে ছাত্রদের একটি দল ধান কাটছে। আরকেটি দল সেই ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে ওই শিক্ষকের বাড়ির উঠানে নিয়ে আসছে মাড়াই করার জন্য। এসময় সাংবাদিকরা ধান কাটার ছবি তুলতে গেলে ছাত্ররা ধান কাটা ফেলে ছুটাছুটি করে পালিয়ে যেতে শুরু করে। পরক্ষণেই শিক্ষক আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আবারো ছাত্রদের ধান ক্ষেতে নিয়ে আসে কাজ করানোর জন্য। পরে ছাত্রদের দলটি সাংবাদিক ও গ্রামবাসীর সামনেই জমির কাটা ধান মাথায় বোঝাই করে ওই শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে আসতে থাকে।
ধান কাটায় নিয়োজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সাঈদ স্যারের প্রতি কাঠা জমির ধান সাতশ টাকা চুক্তিতে কাটছি। তবে আমাদের দলের অনেকই স্কুলে না গিয়ে টাকা ছাড়াও ধান কাটার কাজ করছে।
পাছার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রওনকের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, সকালে তার ছেলে সাঈদ স্যারের কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পরে খবর পান তাঁর ছেলেকে দিয়ে স্যার ক্ষেতের ধান কাটাচ্ছে। পরে বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানালে আমার ছেলে বাড়ি ফিরে আসে। তবে ছেলের সাথে কথা বলে জানতে পারেন ধান কাটার জন্য স্যার তাকে কোনো টাকা দেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ বলেন, পাছার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য স্কুলের ২২ জন দরিদ্র শিক্ষার্থী শ্রমিক হিসাবে আমার জমিতে ধান কাটছে। ওরা আমার কোচিংয়েও পড়াশোনা করে।
তবে পাছার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন শাহ আরশাদুল হক বলেন, গত দুদিন ধরে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হচ্ছে। পরে জানতে পারি শিক্ষার্থীরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে এক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকের জমিতে ধান কাটছে। যেসব শিক্ষার্থী ধান কাটছে তাদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিন্তু কেনো তাঁরা পরের জমিতে ধান কাটছে বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, আবু সাঈদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধান কাটানোর বিষয়টি শোনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধান কাটানোর বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ধান কাটায় অংশগ্রহণ করেছে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।