| |

ঝিনাইগাতী খাল-বিলে দেশি মাছের দেখা মিলছে না

ঝিনাইগাতী(শেরপুর) সংবাদদাতা : বর্তমানে দেশিয় মাছ না পাওয়ার ফলে আমিষ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী । শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী হাট-বাজারগুলোতে দেশি মাছের দেখা মিলছে না। খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার হাট-বাজারে মাছ বিক্রেতারা বিভিন্ন মৎস্য খামারে ও পুকুরে চাষ করা মাছ এনে বাজারে বিকিকিনী করছেন। তাঁরা জানান, জেলেরা নদী, খাল-বিলে জাল ফেলে দেশি মাছের দেখা পাচ্ছেন না। বছর কয়েক আগেও হাট-বাজারগুলোতে দেশি মাছের ছড়াছড়ি ছিল। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ৬শ ৬৫.৩৮ হেক্টর জমিতে মাছ চাষ করা হয়েছে, উপজেলা মাছের চাহিদা ৩ হাজার ৫১৪ মে:টন অর্জণ ৫ হাজার ১২৩ মে:টন তবে দেশিয় মাছের প্রচুর সংকট । দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজন্ম ক্ষেত্র গুলো অবাধে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কিছু কিছু জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের নামে নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে মুশুরি ও কারেন্ট জাল, এর ব্যবহারের ফলে দেশি প্রজাতির মাছ ছোট অবস্থায় জালে ধরা পড়ছে। উপজেলায় প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অত্র উপজেলায় নদী, খাল, বিল ২০টি, উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিমাণ ৬টি। জানাগেছে এগুলোতে একসময় দেশি মাছের ভান্ডার ছিল। মহারশি নদি,কালঘোষা,ধলিবিল, গজারমারিবিল,বাইল্লেবিল,কাকলাকুড়া,বাইলশে,সোনাইকুড়ি, এলেঙ্গানি,নেওয়ারি , শিমূলদ, বুছাদহ,কাটাখালি বিল সহ প্রায় ২০ টি নদি ও বিল রয়েছে। এসব বিল বা জলাশয় থেকে সুস্বাদু দেশি মাছের প্রচুর পরিমানের জোগান পাওয়া যেত। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে পুঁটি, টেংরা, শিং, মাগুর, পাবদা, কই, টাকি, শোল, গোলসা, বালিয়া, কালিবাউস, রুই,বোয়াল,চেলা ও বাতাই নামের নানান জাতের মাছ।
মধ্য মাছ বাজার সহ এলাকার মাছের বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা ছোট আকারের দেশীয় মাছ এনে বিক্রি করছেন। ক্রেতা গোলাম মোস্তফা বলেন, বাজারে ঢুকেই দেশি মাছের খোঁজ করি, না পেয়ে বাধ্য হয়ে মৎস্য খামারের স্বাদহীন মাছ কিনতে হয় আমাদের। মাছ বিক্রেতা মোরাদ বলেন, খামারের মাছ দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখছি। সারা দিন বিলগুলোতে জাল পেতে রেখেও দেশি মাছের দেখা পাওয়া যায় না। মাছ ব্যবসায়ী আ:কাদির, ও হাসমত আলী আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ অঞ্চলে এখন দেশি মাছের আকাল। অন্যান্য জায়গা থেকে কিছু দেশি মাছ বাজারে এলেও উচ্চমূল্যের কারণে তা জনসাধারণের নাগালের বাইরে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার মাছের বংশ বৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার কারণে ও আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মৎস্য আইন মেনে চলতে কড়াকড়ি নিষেদাজ্ঞা আরোপ করলে দেশি প্রজাতির মাছের বংস বৃদ্ধি সহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে আমিষের চাহিদা মিটিয়ে দেখা মিলবে দেশিয় মাছের সমারহ । মাছ প্রকল্পের সভাপতি চাঁন মিয়া বলেন, দেশি প্রজাতির মাছ না পাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে শুকনো মৌসুমে নদী ও জলাশয়গুলোতে পানি থাকে না। তাই খাল- বিলে মা-মাছ বেঁচে থাকতে পারে না। এছাড়াও বিলগুলো পূণঃখনন করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, বিলের গভীরতম জায়গাগুলোতে ব্যক্তি মালাকানার হওয়ায় তা সেচে মাছ ধরে ফেলা হয়। যদিও এভাবে মাছ ধরা বেআইনি। বছরের পর বছর এ ধারা অব্যাহত থাকায় দেশি মাছের দেখা মিলছে না মাছ প্রকল্পের স্থায়ী অভয়শ্রম থেকে কয়েকজন জলদুশ্য আইন অমান্য করে দির্ঘদিন থেকে মা ও ছোট মাছ ধরে ফেলার দরুন দেশি মাছের বংস দিন দিন বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে ।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন দেশি মাছ রক্ষার্থে অবশ্যই জেলেদের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য আইন মেনে চলতে কড়াকড়ি আইন ও ভ্রাম্যমান আদালত প্রয়োগ করার কাজ সহ খাল,বিল অভয়শ্রম মেরামত করা হলে দেশি মাছ বাজারে আবার সমারহ ঘটবে ।