| |

ফুলবাড়িয়া উপজেলা ডিসপেন্সারী নিজেই রোগি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবাদান। নির্বিকার স্বাস্থ্য বিভাগ

মো: আব্দুস ছাত্তার ঃ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা ও পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা ডিসপেন্সারী। সেবাদানকারী এ প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তুপ ও পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ রোগিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা সদর হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌর প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই লাগেনি অত্র ডিসপেন্সারীতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা বড় পুকুরপাড়স্থ বহু দিনের পুরোনো একটি টিনসেড ঘরে জরাজীর্ণ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলছে। টিনের বেড়ায় ঝুলানো সাইনবোর্ডটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় উপজেলা শব্দটি অনেক আগেই উঠে গেছে, শুধুমাত্র ডিসপেন্সারী শব্দটি আংশিক দেখা যায়। সহজে অথবা অচেনা কোন রোগী বা লোকজন এসে বুঝতেই পারবে না যে এটা কিসের ঘর।
সামনের জায়গায় পানি ও ময়লা জমে থাকায় একটা বদ্ধ নর্দমার সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় দীর্ঘদিন চলতে থাকলেও উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর প্রশাসনের কোন কর্তারই মাথা ব্যথা নেই।
সীমানা প্রাচীর না থাকায় শুকনা মৌসুমে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ট্রাক খালাসের জন্যে নিরাপদ জায়গা হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে কিছু জমি বেদখল হয়েছে। শুকনোর সময় সপ্তাহে ২ দিন বাজার বসে সামনের অংশে। এর সামনে এবং দক্ষিন দিক দিয়ে পাকা রাস্তা। রাস্তার পূর্ব ফুলবাড়িয়া থানা ও উপজেলা পোস্ট অফিস। তবুও অযতœ অবহেলায় পড়ে রয়েছে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে থাকে আর বর্ষার সময় সব সময় পানি থাকে।
এত নোংরা পরিবেশেও থেমে থাকছে না সেবাদান। সেবা গ্রহিতারা জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সদরের বাহিরে থাকায় শহরের লোকজন এখান থেকেই সেবা নিয়ে থাকেন। সেবাদানকারী ডাক্তারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় তারা কখনো এসব বিষয়ে কর্ণপাত করেন না। চোঁখ বুজে তা সহ্য করে থাকেন। ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা সেবাদানকারী ডাক্তাদেরকে ঘিরে বসে থাকেন, ফলে রোগিরা কখনো রোগ নির্ণয়কারীর সাথে খোলামেলা কথা বলতে পারেন না। সব মিলিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত উপজেলা ডিসপেন্সারী নিজেই রোগি।
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাজিয়া আক্তারের নিকট ডিসপেন্সারীর সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ. কে. এম ছিদ্দিকুর রহমান জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ডিসপেন্সারীর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়েছি বিষয়টি সকলেই অবগত আছেন।