| |

কিশোরগঞ্জে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন কারাগার

নজরুল ইসলাম খায়রুল : অবশেষে প্রায় সাড়ে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের কাজ সমাপ্তির পথে। ১৫ শত বন্দি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন এ কারাগারের কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে ১৭ বছর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত ১৯৯৯-২০০০ইং অর্থ বছরে শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বে জেলা সদরে পশ্চিমে মারিয়া ইউনিয়নে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয় নুতন এ কারাগারের জন্যে। বিগত ২০১১ সালের জানুারিতে এ কারাগার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কারাগার প্রকল্পের ভেতরে ৩২টি স্থাপনার ৯০ ভাগ কাজ সম্পন হয়েছে। বাকী কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। কয়েদি ও হাজতিদের সাক্ষাতকার ব্লকসহ জেল অফিস, প্রিজনার্স ওয়ার্কসেড, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী ব্যারাক, বিচারাধীন কয়েদী ব্যারাক (পুরুষ) সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন মহিলা কয়েদি ব্যারাক, কিশোর কয়েদী ব্যারাক, ওয়ার্ডার্স ব্যারাক, পুরুষ ও মহিলাদের জন্যে পৃথক পৃথক মেডিকেল সেন্টার, প্রিজনার্স সেল, কনডেম সেল, ক্লাসিফাইড প্রিজনার্স ব্যারাক, জেলারের বাসভবন, ১০০০ বর্গ ফুটের স্টাফ কোয়াটার, কারারক্ষি ও কর্মচারিদের জন্যে করা হয়েছে ৮ শত এবং ৬ শত বর্গফুটের পৃথক দুটি কোয়াটার নির্মাণ কাজ শত ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এনসিলারি ওয়ার্কস, বহি: বৈদ্যুতিক এবং অটো স্টার্ট জেনারেটর, বহি:পানি সরবরাহ এবং ওয়েস্ট ওয়াটার ডিসপোজাল, গ্যাস সংযোগ, বাউন্ডারি এবং সেগ্রিগেশন ওয়াল, রাস্তা ও ফুটপাত, ভূমি উন্নয়ন, রেইন ওয়াটার হারভেসটিংএন্ড সোলার সিষ্টেম। এরই মধ্যে ক্রয় করা হয়েছে, অগ্নি নির্বাপক, ফ্লাওয়ার মেশিন, ফার্নিচার, ইকুইপমেন্ট, রেভিনিউ কম্পোনেট, ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি ও প্রাইস কন্টিনজেন্সি, পিক আপ ভ্যান। বাকী কাজ শেষে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের কাছে নতুন এ কারাগার হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এদিকে বর্তমান জেলা কারাগারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিগনের মধ্যে নতুন কারাগারে যাবার দৃশ্যমান প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বন্দি থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন বন্দিরা।
সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন হাজতি জানান, কারগার স্থানান্তরের সংবাদে দীর্ঘদিন ধরে আটক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এবং হাজতিদের মধ্যে এনিয়ে আনন্দ বিরাজ করছে।
কিশোরঞ্জের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আজমুল হক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কারাগার প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের কাছে নতুন এ কারাগার হস্তান্তরের কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. বজলুর রশিদ জানান, জেলার বর্তমান কারাগারের বন্দি ধারন ক্ষমতা ২ শত ৪৫ জন। অথচ কারাগারে বন্দি রয়েছে ১ হাজার ২’শ মতো।
নতুন কারাগারে বন্দিদের সুযোগ-সুবিধার পরিসর বাড়বে বলে জানান তিনি।