| |

বিএফ আর আই- এ কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব তেলাপিয়া চাষ ও উৎপাদনে পরিবর্তিত জলবায়ুর নিয়ামকগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট(বিএফআরআই) উদ্যোগে ‘ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অন প্রোমোট স্কেলিং আপ অব ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট তিলাপিয়া পন্ডকালচার প্রেক্টিসেস ফর ব্লু গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা গতকাল রোববার ২৯ এপ্রিল ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো:রইছউল আলম মন্ডল । বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড.ইয়াহিয়া মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ এই কর্মশালা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো:গোলজার হোসাইন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড.মো: আনোয়ারুল ইসলাম ,ফাও এর ন্যাশনাল অপারেশন অফিসার বেগস নূরুন্নাহার । সেমিনারের বিষয়বস্তুর উপর অর্থবহ উপস্থাপনা করেন মৎস্য বিজ্ঞানী এএইচ এম কোহিনুর ।
উপস্থাপনার পর প্রধান অতিথি বলেন, জলবায়ূ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের নিয়ামক মাছ চাষ তথা তেলাপিয়া চাষের উৎপাদনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ূ নিয়ামকগুলির মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আকাশের মেঘাচ্ছন্নতা ,বন্যা ও খরার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। তবে যেহেতু মাছ শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণি, সেহেতু তাপমাত্রার তারতম্যতা মাছ চাষের উৎপাদনশলীতা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, এ প্রেক্ষাপটে ফাও () এর অর্থায়নে বাংলাদেশসহ এশিয়ার তেলাপিয়া উৎপাদনকারী ভিয়েতনাম, ফিলিফাইন, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে সমন্বয় করে চাষী পর্যায়ে পুুকুরে জলবায়ূর পরিবর্তন সহশীল তেলাপিয়া চাষ ব্যবস্থাপনা এ্যাডপটিভ ট্রায়েলের মাধ্যমে চাষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
তাছাড়া, বাংলাদেশে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পুকুরে তেলাপিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী মৎস্য উৎপাদনের ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। এমতাবস্থায়, সম্পূর্ন ফাও() এর পৃষ্ঠপোষকাতায় আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের তেলাপিয়া চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ,মৎস্য অধিদপ্তরের ডিজি ড. গোলজার হোসাইন,বাকৃবি মৎস্য অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ড.খলিলুর রহমান, উপ-পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, ড.মো: মাহফুজুল হক, বিএফআরআই এর সাবেক ডিজি ড. মো:গোলাম হোসেন ,শামসুল আলম, মোছা: শহরবানু,শাহ মো: এনামূল হকসহ অনেকেই। অনুষ্ঠানে বিএফআর আই এর বিজ্ঞানী, বাকৃবি’র শিক্ষক, দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা পর্যায়ের সরকারী মৎস্য কর্মকর্তাগণ ,মাছ চাষীগণ ও মিডিয়া প্রতিনিধিগণ ।
সেমিনার অনুষ্ঠানের আগে গত ২৮ এপ্রিল (শনিবার)সচিব বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ইনস্টিটিউটের চলমান গবেষণা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এসময় মুক্তা চাষ, মাছের স্বাস্থ্য গবেষণাগার ,ফিস মিউজিয়াম,কুচিয়ার পোনা উৎপাদন ও চাষ, বিলুপ্তপ্রায় মহাশোল মাছের প্রজনন,মেকং পাঙ্গাসের ব্রুড ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রণ করেন। এসময় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের মহা পরিচালক ড.ইয়াহিয়া মাহমুদ ও অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।