| |

ভালুকায় দেড় কোটি টাকার মাছ ধরতে পারছেন না খামার মালিক

আঞ্চলিক প্রতিনিধি :
ভালুকায় জমির মালিকদের বাধায় এক মৎস্যচাষী তার খামারের প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ধরতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ভালুকা উপজেলার নিশাইগঞ্জ গ্রামের। গতকাল মঙ্গলবার (০৮ মে) দুপুরে নিজের মৎস্য খামারের পাশে সংবাদ সম্মেলন করে ওই অভিযোগ করেন খামার মালিক উপজেলার গোয়ারী আমুনাটিপাড়া গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামান প্রিন্স তালুকদার। তবে জমির মালিকদের দাবি ভিন্ন।
সংবাদ সম্মেলনে খামার মালিক উল্লেখ করেন, উপজেলার নিশাইগঞ্জ গ্রামের বারআলা নামক বিলের শতাধিক একর জমি ১২৯জন মালিকের নিকট থেকে বার্ষিক কাঠাপ্রতি ২২শত টাকা হারে ভাড়ায় ১০বছর মেয়াদে লিজ নিয়ে ‘তালুকদার মৎস্য খামার’ গড়ে তুলে তাতে মাছ চাষ শুরু করেন। খামারটি গড়তে তার প্রচুর অর্থ বিনেয়োগ করতে হয়েছে। নয় বছর যাবৎ তিনি ওই খামারে মাছ চাষ ও জমির মালিকদের ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। বর্তমানে তার ওই খামারে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ রয়েছে। কিন্তু খামারের জমি লিজদাতাগণের কয়েকজন বিভিন্ন অজুহাত ও খামারের মাছগুলো আত্মসাতের উদ্দেশ্যে প্রায় চারমাস যাবৎ তাকে ওই খামারের মাছ ধরতে বাধা দিয়ে আসছে। খামারে মাছ ধরতে গেলে তাকে নানাভাবে ভয়ভিতি দেখানো হয়। বেশ কিছুদিন আগে মাছ ধরার জন্য একাধিক পাওয়ার পাম্প বসিয়ে খামারের পানি শোকানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতেও বাধা দেয় তারা। বর্তমানে তার খামারে থৈথৈ পানি। এদিকে, মাছ ধরতে না পরায় তিনি খামারের জমির মালিকদের লিজ মানি ও পাওনাধারদের টাকাও পরিশোধ করতে পারছেন না। ওই বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় একাধিক জিডিও করা আছে তার। তাছাড়া, এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। খামারের লিজের মেয়াদও প্রায় শেষের দিকে। এঅবস্থায় খামারের মাছ ধরতে না পারলে তার বিপুল অংকের টাকার ক্ষতি হবে। খামার মালিকের অভিযোগ, তার অজান্তে জমির মালিকদের অনেকেই বিআরএস পর্চায় ও দলিলে একই জমি বারবার দেখিয়ে এবং ওইসব জমির ভাড়া বাবদ তার নিকট থেকে ১৩লাখ ৭০হাজার টাকা বেশী নিয়েছেন। ওই টাকা ফেরৎ চাওয়ায় জমির মালিকদের সাথে তার বিরোধের সৃষ্টি।
এদিকে, খবর পেয়ে সংবাদ স্থানীয় কিছু লোক সংবাদ সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হন এবং নিজেদেরকে ওই মৎস্য খামারের জমির মালিক বলে দাবি করেন। ওই সময় তারা জানান, আর কয়েক দিন পরই ওই খামারের জমির লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো তাদের জমির ভাড়াবাবদ মোটা অংকের টাকা বাকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভালুকা মডেল থানার স্মরনাপন্ন হয়েছেন।