| |

ময়মনসিংহের উইনারপাড়ে মৎস্যখামার মালিকের বেদম প্রহার ও নির্যাতনে বৃদ্ধ সুলতানের মৃত্যু মামলা দায়ের ঃ হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে জনতার বিক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের উইনার পাড় (উনেইর পাড়) গ্রামের মৎস্য খামার মালিক দুর্দন্ড প্রতাপশালী মজিবুর রহমান ও তার সশস্ত্র সঙ্গীদের বেদম প্রহার ও নির্যাতনে গুরুতর আহত ভাবখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সদস্য সুলতান আলি (৬৫) উইনার পাড়স্থ কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টানা ৪ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ৯ নভেম্বর (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ময়মনসিংহ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪ তলায় সিসিইউ ওয়ার্ডে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলে কোতোয়ালী থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অমানসিক নির্যাতনের কারনে মৃত সুলতান আলির লাশের সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরদিন গত মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় মচিম মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কছে লাশ হস্তান্তর করলে ওই দিনেই সন্ধ্যায় নামাজে জানাযার পর পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযা ও দাফনের পর জানাযা-দাফনে অংশগ্রহনকারীরা সহ এলাকার হাজার হাজার জনতা সুলতান আলি হত্যাকান্ডে জড়িত মজিবুর রহমান (৫০), আতাউর রহমান আতা (৪৫) ও সতন (৫৫) গংদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবীতে চোরখাই বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের পুত্র মোঃ আবদুর রাজ্জাক (৩৭) বাদী হয়ে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় বাঃদঃবিঃ’র ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা নং-৩৭ তাং-১০/১১/১৫ইং রুজু করেছেন। মৃত্যু সজ্জায় দেয়া জবানবন্দী অনুযায়ী মামলায় আসামী করা হয় সতন মাঝি (৫৫) পিতামৃত ফুলচাঁন মাঝি সাং নিহালিয়া কান্দা, মজিবুর রহমান (৫০), আতাউর রহমান আতা (৪৫) উভয় পিতা নূরুল ইসলাম, মোছাঃ শামছুন্নাহার বেগম (৩৫), মোছাঃ কুলসুম বেগম (২৮) উভয় পিতামৃত রাজাকার সফি মিয়া ও সুফিয়া বেগম (৬০) স্বামী মৃত রাজাকার সফি মিয়া এই ৬ জনকে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের মামলার এজাহারের বর্ননায় জানা যায়, সুলতান আলিকে প্রহার ও নির্যাতন ঘটনার ১৪/১৫ দিন আগে প্রভাবশালী মজিবুর রহমানের নিজ গ্রামস্থ সরকারী খাল দখল করা মৎস্য খামারের পুকুরে পানির চাপে বেলেমাটির একটি পাড় আকস্মিক ভাবে ভেঙ্গে গিয়ে ১০/১২ লাখ টাকার মাছ চলে যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে মজিবুর নিরীহ বৃদ্ধ সুলতান আলিকে সন্দেহ করে পাড় কেটে দিয়েছে বলে। এরই জের ধরে মজিবুর সুলতান আলির বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষন করে আসতে থাকেন। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর মজিবুরের নির্দেশে তারই দাঙ্গাটে সঙ্গী সতন গত ০৬/১১/১৫ ইং তারিখ (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর পর অনুমান ৫টা ৫০ মিনিটে সুলতান আলিকে একই গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মজিবুর রহমানের মাছের খামারের পাড়ে যায়। সেখানে নিয়েই আসামীরা সকলে ঝাপটে ধরে সুলতান আলির দু’হাত ও দু’পা বেধে ফেলে বাঁশ, লঠি, রড ইত্যাদিতে সর্বাঙ্গে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করে এবং বাধা অবস্থায় সেখানেই ফেলে চলে যায়। আহতের কান্না-চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এই অবস্থা দেখে খবর দিলে তার পুত্র সবুজ (২০), আঃ রাজ্জাক (৩৭) সহ অন্যান্য স্বজনরা ছুটে যায়। সুলতান আলির করুন অবস্থা দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আশপাশ থেকে আগত অন্যান্যদের সহযোগিতায় গুরুতর আহত সুলতান আলিকে দ্রুত নিকটস্থ কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করে। টানা ৩ দিনের চিকিৎসায় তার তেমন উন্নতি না বুঝে ০৯/১১/১৫ইং তারিখ সকাল সাড়ে ৯ টায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এই হাসপাতালের ৮ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উন্নতি না হওয়ায় ওই দিনেই একই হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪র্থ তলায় সিসিইউ ওয়ার্ডে প্রেরন করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিনেরই সন্ধ্যার পর সাড়ে ৬ টায় বৃদ্ধ সুলতান আলি মারা যান। সুলতান আলির মৃত্যুর খবরটি শোনার পর থেকেই প্রভাবশালী মজিবুর পলাতক রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।