| |

কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডপের পর ২ দিন ধরে নেত্রকোনা অচল

সৌমিন খেলন, নেত্রকোনা : কালবৈশাখী ঝড়ে সবকিছু তচনচ করে দেয়ার পর অচল হয়ে পড়েছে নেত্রকোনা। শুক্রবার (১১ মে) সকালে জেলা সদরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার উপর দিয়ে শিলাবৃষ্টির সাথে প্রলয়ঙ্করী এক ঝড় বয়ে যায়।ওই ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখির প্রাণহানি, ফসল নষ্ট হওয়াসহ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পানি, বিদ্যুৎ ও বিভিন্ন এলাকার গ্যাস সংযোগ।আধুনিক যুগের এসব সুবিধা বঞ্চিত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। টানা দুদিন (শুক্র-শনিবার) বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পেশাজীবীদের কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তি জীবনের কাজকর্মেও স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।পানি ও গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে করতে পারছে না কেউ রান্নাবান্নার কাজ। খাবার পানিটুকুও পাচ্ছে না মানুষজন। বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জের অভাবে মুঠোফোন বন্ধ হয়ে বিচ্ছিন্ন রয়েছে নেটওয়ার্কিং যোগাযোগ।সুযোগ কাজে লাগিয়ে দোকানগুলোতে দ্বিগুনের অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন মোমবাতি ও কেরোসিন। বিদ্যুতের অভাবে ভ্যাপসা গরমে অমানবিক ও অবর্ণনীয় পরিস্থিতিতে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা।সন্ধ্যার পর থেকে চারিদিকে গুটগুটে অন্ধকার নেমে আসায় জনমনে কাজ করছে আতঙ্ক। এ পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশ বারবার জনসাধারণকে সর্তক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টহল। সাংবাদিককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এস.এম আশরাফুল আলম।তবে নেত্রকোনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আজমল হোসেন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হওয়ার ব্যপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি জানান, বিদ্যুৎ দ্রুত চালু করার জন্য যথাসম্ভব কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসে নেত্রকোনা জেলা কৃষক লীগে সভাপতি জানান, শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডপে জেলায় অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অহায় কৃষক। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পাওয়ার জন্য কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঈনউল ইসলাম জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে সদরসহ পূর্বধলা, আটপাড়া ও খালিয়াজুরী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩ হাজার ঘরবাড়ি। নিহত হয়েছেন একজন।নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান। বিভিন্নস্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে ১২০ টি। পিডিবির ৭০ টি ও পল্লী বিদ্যুতের ৫০ টি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শনিবার পর্যন্ত ১২ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান ডিসি।