| |

ময়মনসিংহে পুলিশের পৃথক বন্ধুকযুদ্ধে খুনি আলমগীর ও ছিনতাইকারী সিরাজ নিহত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালী পুলিশের পৃথক অভিযানে হত্যা মামলার অন্যতম আসামীসহ শহরের আলোচিত ছিনতাইকারী ও খুনি বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো চরাঞ্চলের কাশেম হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আলমগীর ও ছিনতাইকারী সিরাজ। এসময় ডিবি পুলিশের এএসআই আতিকুর রহমান, কন্সটেবল নাজমূল হোসেন ও আসাদুজ্জামান আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ময়মনসিংহ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিতে সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ, মাদকবাজ, চাদাবাজ, ছিনতাইকারীরা আতংকিত হয়ে পড়েছে।
ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানান, নির্মম ও বর্বরোচিত চরাঞ্চলের কাশেম হত্যাকান্ডের মামলাটি পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশের উপর ন্যাস্ত করা হয়। যার মামলা নং ১৬(৪)১৮। বিভিন্ন সোর্স ও ডিবির এলআইসি বিভাগের মাধ্যমে জানতে পেরে হত্যাতাকান্ডের অন্যতমহোতা আলমগীরকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে শুক্রবার সন্ধায় ডিবি কার্যালয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর পুলিশকে জানায়, পরানগঞ্জের একটি বাড়ীতে কাশেম হত্যাকান্ডের প্রধান হোতাসহ একাধিক আসামী অবস্থান করছে। রাতে আলমগীরকে সাথে নিয়ে পরানগঞ্জের উদ্দেশ্যে ডিবির ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিম অভিযানে রওনা দেয়। ডিবির ঐ দলটি আলমগীরকে নিয়ে জয়বাংলা বাজার থেকে পরানগঞ্জ রাস্তায় জনৈক জালালের বাড়ীর কাছে পৌছলে কাশেম হত্যাকান্ডের মূলহোতা সিদ্দিকের নেতৃত্বে ৮/১০জনের একটি দল পুলিশের গাড়ী লক্ষ্য করে ইটপাকেট নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ আত্মরক্ষার্থে পুলিশও তাৎক্ষনিক গুলি ছুড়ে। এদিকে গ্রেফতারকৃত আলমগীর কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। অপরদিকে পুলিশের গুলিবর্ষনে সন্ত্রাসী ও খুনীচক্র পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান এবং ডিবি পুলিশকে সহায়তায় গুলিবিদ্ধ আলমগীরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে প্রেরণ করে। অভিযানে ওসি আশিকুর রহমান, ডিবির ওসি তদন্ত মোখলেছুর রহমান, এসআই ফারুক আহম্মেদ, আক্রাম হোসেন, পরিমল চন্দ্র দাস,আজিজুল হক, আনোয়ার হোসেন, মোবারক হোসেন, কমল কুমার রায়সহ অন্যান্যরা সাথে ছিলেন।
অপরদিকে শুক্রবার ভোর রাতে শহরের সানকিপাড়ায় ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের শিক্ষক মিল্কীকে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩নং ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল পরদিন শনিবার মধ্যরাতে সানকিপাড়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযানে যায়। এ সময় সানকিপাড়া এসএ সরকার রোড (সাবেক এমপি ফজলুল হকের বাড়ীর পিছনে) একটি বাঁশঝাড়ের কাছে গেলে ৫/৭জনের একটি চক্র পুলিশের উপর হামলা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়লে সিরাজ নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। এ সময় অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের ওসি তদন্ত খন্দকার সাকের আহমদ, ওসি ইনেটলিজেন্ট এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং মুশফিকুর রহমানসহ অন্যরা এগিয়ে যান। পরে আহত সিরাজকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কাশেম হত্যাকান্ডের অন্যতম ঘাতক বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে রাতেই চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্লাস করে। তারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে পুলিশের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া গতকাল শনিবার বিকালে জয়বাংলা বাজারে শত শত জনতা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়ে মিছিলসহ মিষ্টিমুখ করেছে। অপরদিকে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিনতাইকারীদের হাতে আহত হওয়ার খবরে উত্তেজনা বিরাজ করলেও গতকাল এক ছিনতাইকারী ও তাদের প্রিয় শিক্ষককে আহত করার অন্যতম আসামী পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে উত্তেজনা প্রশমিত হতে শুরু করে। জনগন ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারসহ উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন।