| |

ফুলবাড়ীয়ার নারী জেএমবি সদস্য নাঈমার বাবার উক্তি তালিম-ই কাল হলো মেয়ের

মো: আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়িয়া : রাজধানীর আরামবাগ থেকে সদ্য র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর হাতে আটক দুই নারী জেএমবি সদস্যের একজন নাঈমা আক্তার ওরফে হিমালয়ের কন্যা (২৫)।
গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাক্তা ইউনিয়নের শ্রীপুর তার গ্রামের বাড়ীতে বাবার সাথে কথা বললে তিনি জানান তালিম করতে গিয়ে তার মেয়ে সর্বনাশ হয়েছে, তার ভাষায় তালিম ই কাল হলো তার পরিবারের।
ঘটনার পেছনে ঘটনা তুলে আনতে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর সরজমিনে নাঈমার গ্রামের বাড়ী শ্রীপুরে গেলে প্রাথমিকভাবে কাউকে পাওয়া যায়নি। অপেক্ষা করলে পার্শ্বের মসজিদ থেকে বের হয়ে আসেন পাগড়ি পড়া এক মুরব্বী। নাম তার হাফেজ মো: লাল মাহমুদ। তার চার মেয়ের মধ্যে নাঈমা দ্বিতীয়। গ্রামের পলাশীহাটা দাখিল মাদ্রাসা হতে দাখিল পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ ও কেশরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। ভর্তি হয় জেলা সদরের সরকারী আনন্দ মোহন কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে। কলেজ হোস্টেলে ছাত্রী নিবাসে সিট নিয়ে লেখা পড়া চালিয়ে যাবার সময় জড়িয়ে পড়ে জেএমবি’তে। বিষয়টি পরিবারের কেউ জানেন না বলে জানা যায়। তবে মাঝে মধ্যে বাড়ীতে আসত নাঈমা ছোট থেকেই তার চোখের সমস্যা থাকায় নিয়মিত চশমা ব্যবহার করত। প্রায় ১ বছর আগে ত্রিশালের বালিয়াপাড়ায় বিয়ে হয় নাঈমার। কিন্তু তারপরও কলেজ হোস্টেলে থাকত নাঈমা। মাস্টার্স শেষ বর্ষ চলছিল তার।
তার বাবার মতে, তিনি একজন গরিব হাফেজ মানুষ, বসতভিটা ছাড়া আর কোন আবাদী জমি নাই তার। চার মেয়েকে লালন পালন করে বিয়ে দিয়েছেন। গ্রামের লোকজন তাকে খুবই সহজ সরল হিসাবে জানে। বাড়ীর কাছেই একটি মসজিদে ইমামতি করেন তিনি। তার মেয়ে জেএমবি’র সদস্য এ খবর জানাজানি হলে কোথায় মুখ দেখাবেন তিনি? ঘটনা শুনার পর থেকে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারছেন না। গত তিনদিন যাবত খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। খবর পাওয়ার পর পরই বড় মেয়ের বাসা ময়মনসিংহে ছুটেযান নাঈমার মা। কিন্তু কী করার আছে তাদের, এ নিয়ে টেনশনে আছেন তিনি। তবে কলেজ হোস্টেলে থাকায় কখনো মেয়ের থাকার জায়গা দেখার সুযোগ হয়নি তার। আর এ সুযোগেই বিপথগামী হয়েছে নাঈমা। তবে বাবা জানতেন নাঈমা তালিম করায়। অনেকেই তালিম করায় তবে এ তালিম যে সর্বনাশা তালিম তা তিনি আচ বা অনুমান করতে পারেন নি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়াণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত র‍্যাব ১১-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর আরামবাগ এলাকা থেকে দু নারী জেএমবি সদস্য আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তারা হলো ময়মনসিংহ জেলার হামিদ উদ্দিন রোডের রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন ওরফে হুরের রাণী ওরফে লাবিবা (২০) ও একই জেলার ফুলবাড়িয়া থানার শ্রীপুরের নাঈমা আক্তার ওরফে হিমালয়ের কন্যা (২৫)। এ সময় দুজনের কাছ থেকে জঙ্গিবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।