| |

২শ বছরের পুরনো নড়বড়ে জুয়া আইন

জোটন চন্দ্র ঘোষ, হালুয়াঘাট : নড়বড়ে জুয়া আইনে সর্বসাধারণের অসন্তুষ্টি প্রকাশ পাশাপাশি আইনটির সংশোধন সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করেন সুধীমহল। জুয়া হল একটি ভিকটিমলেস বা মজলুমবিহীন অপরাধ। ভিকটিমলেস অপরাধ মানে হল, যে অপরাধের জন্য ভুক্তভোগী থানায় কোন অভিযোগ করে না।
এসব অভিযোগে সাধারণত ভিকটিম অপরাধের সহযোগী হয়। তারা স্বেচ্ছায় বা নিজের প্রয়োজনে এ অপরাধের সাথে জড়িত হয়। যারা এ অপরাধ থেকে লাভবান হয়, তারা থাকে বিভিন্ন দিক থেকে শক্তিশালী। যেহেতু থানায় এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে না, তাই থানাও থাকে এ সম্পর্কে নিরব। অধিকন্তু এ অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করে সমাজের এক বা একাধিক প্রভাবশালী অংশ। এরা প্রভাব, ক্ষমতা, মাস্তানী, উৎকোচ ইত্যাদির বিনিময়ে আইনের হাতকে বেঁধে রাখে। যেহেতু নির্দিষ্ট কেউ এ অপরাধের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে না এবং এর থেকে ভাল অংকের বখরা মিলতে পারে, অনেক স্থানে জুয়ারীগণ স্থানীয় পুলিশ ও রাজনীতিবিদদের সমর্থন পেয়ে থাকে।
জানা যায়, জুয়া বন্ধে দেশে যথোপযুক্ত আইনও নেই। প্রায় ২শ’ বছরের পুরনো আইনে লঘু দন্ডের কথা বলা আছে। এ সংক্রান্ত আইন (১৮৬৭) অনুযায়ী যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবহারকারী হিসাবে অনুরূপ স্থানকে সাধারণ জুয়ার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত করিতে দিলে; এবং উপরোক্ত ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবহারকারী হিসাবে যেকোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে বা স্বেচ্ছায় অন্য লোককে, উক্ত স্থানকে সাধারণ জুয়ার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত করিতে দিলে; এবং যে কেহ বর্ণিত স্থানকে উক্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কাজে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করিলে অথবা যেকোন ভাবে সাহায্য করিলে; এবং অনরূপ গৃহের, তাঁবুতে, কক্ষে, প্রাঙ্গণে বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানে যে কেহ জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান বা নিয়োজিত করিলে অভিযুক্ত হইয়া যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট বিচারে সোপর্দ হইবে এবং অনূর্ধ্ব দুইশত টাকা পর্যন্ত জরিমানায় এবং পেনাল কোডের সংজ্ঞানুসারে অনূর্ধ্ব তিন মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডেদন্ডণীয় হইবে।
জুয়া আইন নিয়ে সচেতন ব্যক্তিসহ পুলিশ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন,পাশাপাশি আইনটির সংশোধন সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করেন সুধীমহল। পুলিশের ভাষ্যমতে আমরা এতো কষ্ট করে আসামী ধরে জেলহাজতে প্রেরণ করি। একদিন পরেই সেই আসামী কিছু টাকা জরিমানা বা দু’একদিন সাজা খেটে বের হয়ে আবার পুনরায় জুয়া খেলা আরম্ভ করে দেয়। কমপক্ষে ছয় বছরের শাস্তির বিধান রেখে জুয়া আইন প্রণয়ন করার দরকার। তা না হইলে এই সমাজ থেকে কোনদিনই জুয়া উচ্ছেদ করা সম্ভব হবেনা।