| |

সংখ্যালঘু তিন বিধবার জমি দখলের পায়তারা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ॥
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের চড়পাড়া গ্রামের প্রভাবশালী দুই ভাই মঞ্জুরুল হক ও আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জের মুচি সম্প্রদায়ের তিন বিধবা নারীর জমি দখল করতে বাড়িঘরে হামলা ও নারীদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী তিন বিধবা নারী হলেন মুচিপাড়ার বাসিন্দা-সীতা রানী রবিদাস, সন্ধ্যা রানী রবিদাস, মিনতী রানী রবিদাস। রোববার হামলাকারী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও পূর্বধলা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই ভ্ক্তুভোগী তিন বিধবা নারী। গত ১৪ মে ওই দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে মুচিপাড়ার বাড়িঘরে হামলা ও নারীদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
মুচিপাড়া ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ- নেত্রকোনা মহাসড়কের পাশে শ্যামগঞ্জ মুচিপাড়ায় পৈত্রিক সূত্রে সাড়ে চার শতাংশ জমি রয়েছে সীতা রানী, সন্ধ্যা রানী, মিনতী রানীর। ওই জমির সামনের অংশে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন মঞ্জুরুল হক। ২০০৯ সালে এপ্রিল মাসে দোকান ভাড়ার চুক্তি শেষ হলে মঞ্জুরুলকে ঘর ছেড়ে দিতে বলে ওই তিন নারী। কিন্তু মঞ্জুরুল ওই জায়গাকে নিজের বলে দাবি করে জোরপূর্বক বিনা ভাড়ায় ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে। চলতি বছরের ১মে মঞ্জুরুল ওই দোকান ভেঙে নিয়ে যায়। এরপর ওই তিন নারী ১৩ মে ওই জায়গায় ঘর নির্মাণ করতে চাইলে মঞ্জুরুল বাধা দেয়। এবং ওই দিন রাতেই রাতে মঞ্জুরুল হক ও আব্দুল মজিদ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওই দোকানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এসময় বাধা দিলে তারা মুচিপাড়ার বাড়িঘরে হামলা ও পরিবারের নারী সহ অনান্য লোকজনকে মারধর করে জায়গা ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এসময় মুচিপাড়ার লোকজন ডাক-চিৎকার শুরু করলেও কেউ তাদের উদ্ধার করতে আসেনি। পরে ওই রাতেই মুচিপাড়া থেকে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করলে শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মঞ্জুরুল হককে আটক করে। পরে প্রভাবশালীদের চাপে পরদিন সকালে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে ওই দুই ভাই আবারো তাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি- ধামকি দিচ্ছে।
বিধবা সন্ধ্যা রানী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম ও মঞ্জুরুলের ভাই আব্দুর রাশিদ ১৯৯৬সালে দোকান করার উদ্দেশ্যে আমার শ্বশুড় যমুনা রবিদাসের নিকট থেকে ১২বছর ৬মাস মেয়াদে ভাড়া নিয়েছিলো। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন মঞ্জুরুল বলছে তারাই ঘরের মালিক। আমরা প্রতিবাদ জানালে মঞ্জুরুল ও তার ভাই মজিদ আমাদের বাড়ি ঘরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নারীদের মারধর করেছে। ওদের ভয়ে বাড়ির মেয়ে- ছেলেরা বাইরে বের হতে পারছেনা।
আরেক ভুক্তভোগী বিধবা সন্ধ্যা রানী বলেন, ওরা দুই ভাই ভূয়া দলিল করে আমাদের তিন জায়ের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। মঞ্জুরুল মুখে মুখে বলে সালাম নামের এক ব্যাক্তির কাছ থেকে জমি কিনেছে। কিন্তু সালাম নামের কেউ আমাদের এখানে এসে জমির দাবি করেনি। আমরা দরিদ্র ও সংখ্যালঘু মানুষ বলে কেউ আমাদের পাশে দাড়াতে চায় না।
এ দিকে অভিযুক্ত মঞ্জুরুল হক জানান, রাশিদ ভাইয়ের মৃত্যুর পর দোকান ভাড়া নিয়ে জানতে পারি জমির মালিক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুছ সালাম। কিন্তু সালাম জমি দখল নিতে না পারায় আমি তার কাছ থেকে এক শতাংশ জমি আমার পরিবারের সদস্যদের নামে ক্রয় করি। আমার জমির দলিলের কাগজপত্রও সঠিক। মধ্যরাতে হামলা করে কেনো জমি দখল করতে গেলেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওইদিন রাতে আমি জমি দখল করতে যাইনি। হামলা ও মারধরের অভিযোগটিও মিথ্যা।
তবে পূর্বধলার গোয়ালাকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সালাহ উদ্দিন চাঁন জানান, মুচিপাড়ায় মধ্যরাতে মঞ্জুরুল হক তার লোকজন নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ মঞ্জুরুলকে আটক করে শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে আমিই তাকে ছাড়িয়ে আনি। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
পূর্বধলার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক শাহিন নুর আলম জানান, ৯৯৯ নাম্বারের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মঞ্জুরুল হককে আটকের পর ছেড়ে দেয় হয়েছে। উভয়পক্ষের মুচলেকা নিয়েছি। বিজ্ঞ আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ জমিতে কেউ যেতে পারবে না।
পূর্বধলা ইউএনও নমিতা দে বলেন, ওই তিন বিধবা নারীর অভিযোগ পেয়েছি। দলিলপত্র যাচাই-বাছাই ও জমি দখলের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।