| |

দুইদিনের ব্যবধানে বন্দুকযুদ্ধে নেত্রকোনায় ৩ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

সৌমিন খেলন : নেত্রকোনা জেলা সদরে দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে তিন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে সর্বশেষ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মনাং এলাকায়। এ যুদ্ধে অজ্ঞাত দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। পরে অনুসন্ধানে একজনের নাম-পরিচয় খুঁজে পায় পুলিশ। তিনি হলেন- কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার পশ্চিম সিকদারপাড়ার বাসিন্দা মো. হোসাইনের ছেলে মো. ওসমান গনি। তবে শুক্রবার রাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত অপরজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ টি পাইপগান উদ্ধার করে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে এরআগে সোমবার (২১ মে) দিবাগত রাতে সদরের বড়ওয়ারী বালুঘাটে বন্দুকযুদ্ধের
প্রথম ঘটনায় আমজাদ হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছিলেন। তিনি শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। বড়ওয়ারী বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি পাইপগান, ৫০০ গ্রাম হেরোইন ও ৩০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন খান দৈনিক স্বদেশ সংবাদকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। বন্দুকযুদ্ধের এসব ঘটনায় ওসিসহ মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ৮ জনের মতো আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। জেলা পুলিশ সুপার দৈনিক স্বদেশ সংবাদকে বলেন, ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধ’ স্লোগানে সারাদেশের মতো নেত্রকোনায় চলছে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান। গত ছয়দিনে জেলা সদরসহ দশ উপজেলা থেকে এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাদকসহ ২৯১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে সদর থানায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ তিন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদা প্রস্তুত। সেক্ষেত্রে নিজের জীবন দিতেও আমরা দ্বিধা করবো না। এ যুদ্ধে সফল হতে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রত্যেক পুলিশ সদস্য চব্বিশ ঘণ্টা তৎপর রয়েছেন। মাদকবিরোধী এ অভিযান বা যুদ্ধের এখানেই শেষ নয় মন্তব্য করে এসপি জয়দেব আরো বলেন, যতক্ষণ সমাজ ও দেশ থেকে মাদকের মূল উৎপাটন না হচ্ছে, ততক্ষণ চলবে আমাদের এ যুদ্ধ। তবে যারা মাদকের মতো অভিশপ্ত জীবন থেকে ফিরে আসতে চায় তাদের জন্য নেত্রকোনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। আর যারা মাদকের অন্ধকার রাজ্যের অবিচল পথচলায় সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করার ভূমিকায় নিয়োজিম থাকবেন তাদের ক্ষেত্রে সবসময় কঠোর থেকে কঠোরতর থাকবে জেলা পুলিশ।