| |

আগামী বংশধরদের বাঁচানোর জন্য মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী-কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী

শেরপুর থেকে আলমগীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুবসমাজকে রক্ষার জন্য, আগামী বংশধরদের বাঁচানোর জন্য মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, ঠিক তখন একদল লোক মানবাধিকারের কথা বলে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি শনিবার দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাসিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়, গরিব ও দুস্থদের মাঝে শাড়ি, শার্ট, পাজামা ও খেজুর বিতরণকালে এক সমাবেশে ওই মন্তব্য করেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তার বক্তব্যে রেস, জুয়া মদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় গিয়ে সেদিন বিসমিল্লাহ বলে ৩৬০টি মদের লাইসেন্স দিয়েছিলেন। আর সেইসঙ্গে লাকি খানের ঝাঁকি নৃত্য এ দেশে চালু করেন। যুব কমপ্লেক্স করে তিনি যুবকদের বিপদগামী করতে নোংরা নাচ-গান গ্রামে-গঞ্জে চালু করেন। সেই থেকে আমাদের যুব সমাজ একদিকে মাদক ও অন্যদিকে জুয়া খেলাসহ নানা ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়ে।
মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নির্দেশে পাকিস্তানপন্থীরা যখন বাপের সামনে ছেলের শরীরে পেট্্েরাল ঢেলে পুড়িয়ে মেরেছে, সেদিন মানবাধিকারের কথা শোনা যায়নি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নেশার টাকার জন্য যে ছেলে বাবাকে মেরে ফেলে, সেই বাপের কি মানবাধিকার নেই? ঐশি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাবা-মা দু’জনকে হত্যা করল। ঐশির মানবাধিকার আছে। তার বাবা-মার কোন মানবাধিকার নেই? মাদকাসক্তদের হাতে যারা মরে তাদের মানবাধিকার নেই? যারা মারে তাদের জন্য আমাদের কাঁদতে হবে এমন কথা বলে মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করা যাবে না। ওইসময় মন্ত্রীর সাথে শেরপুরের পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গনি, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) এটিএম জিয়াউল ইসলাম, খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন, নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রিপন, স্পেশল পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হোসেন মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন মন্ত্রী নালিতাবাড়ীর যোগানিয়া, কলসপাড়, রাজনগর ও বাঘবেড় ইউনিয়নের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ৫০৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে একটি করে, থ্রিপিছ ও শাড়ি, দুধ খাওয়ার জন্য প্রতিজনকে ৫শ করে টাকা, ৩ হাজার ১২০ জন দরিদ্র নারীকে একটি করে শাড়ি ও ৬শ ৮০ জন যুবককে ট্রাউজার-গেঞ্জির সেট বিতরণ করেন। এছাড়া ওই ৪ ইউনিয়নের ১২ হাজার দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল ও খেজুর দেওয়া হয়।