| |

হালুয়াঘাটে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে সদস্যের অভিযোগ

জোটন চন্দ্র ঘোষ, হালুয়াঘাট : হালুয়াঘাট উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সচিব মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসাধাচরণ,কর্মফাকি,নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া সিদান্তে একক ভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড দূর্নীতির মাধ্যমে পরিচালনা করার দায়ে গত ৩ জুন অত্র ইউনিয়নের ১২ জন (সকল মেম্বার) ইউপি সদস্যগণ যৌথ স্বাক্ষরে ময়মনসিংহ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবর সচিবের বদলী প্রসঙ্গে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, আমতৈল ইউনিয়নের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম প্রায় দুই বছর যাবত অত্র ইউনিয়নের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। যোগদানের পর থেকেই সপ্তাহে দুই তিন দিন অফিস করতেন। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সাথে অসাধাচরণ করতেন। সকল সময় ইউপি সদস্যদের অবমূল্যায়ন করতেন। প্রায় দুই মাস যাবত অসুস্থতার নাম করে অফিসেই আসছেন না তিনি। ফলে অত্র ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে।
গত ২৮ মে গোপনীয় ভাবে সর্বসাধারণকে অবগত না করে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১১ নং আমতৈল ইউনিয়নের ১,৫০,৭০৭৮০ টাকা আয় ও ১,৪৮,৯৬ হাজার ১শত দেড় টাকা ব্যায় ও ১,৭৬,৬৭০ টাকা উদ্ধৃত্ত রেখে নীতিমালা অমান্য করে বাজেট ঘোষনা করেন। উক্ত বাজেট ঘোষণার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ (শফিক) ইউপি সদস্যরা অবগত নয়। বাজেট ঘোষণার বিষয়টি পত্রিকার মাধ্যমে অভিযোগকারীগণ জানতে পারেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দূর্নীতিতে ভেঙ্গে পড়েছে আমতৈল ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ড। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সর্বসাধারণের। নামমাত্র কাজ করে সচিব নজরুল ইসলাম কাগজে কলমে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে একক ভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ। জেলার ফুলপুরে গড়ে তোলেছেন কালটাকার বিশাল অট্রালিকা। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি। তার আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে গেলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল। আয়ের উৎস খোজতে দূর্ণীতি দমন কমিশনের তদন্ত চান জনসাধারণ।
এ বিষয়ে সচিব নজরুল ইসলাম বলেন,তিনি বাজেট ঘোষণা করেছেন। কিন্তÍ চেয়ারম্যানের সন্মতি ছিলনা। শারীরিক ভাবে অসুস্থ তাই সঠিক ভাবে অফিস করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি নিজেই বদলী হয়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন। চেয়ারম্যান দিনের বেলায় পরিষদে আসে না। সন্ধায় পরিষদে আসার কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। চেয়ারম্যান বর্তমানে একজন গ্রাম পুলিশ দিয়ে পরিষদের সকল কাজকর্ম সম্পন্ন করাচ্ছেন । তিনি কোন দূর্নীতি করেন নি বলে জানান।
এ ব্ষিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সচিবের উপর তার কোন রাগ কিংবা খোব নেই। তিনি শুনেছেন পরিষদের সকল সদস্যরা সচিবের বদলীর জন্য অভিযোগ করেছেন। তিনি সময়মত পরিষদে আসছেন এবং সচিবের কাজ গুলিও তাকে করতে হচ্ছে বলে জানান। অত্যান্ত গোপনীয় ভাবে সচিব তার পরিষদের বাজেট ঘোষণা করেছে। বিষয়টি তাকে অবগত করেন নি বলে জানান।