| |

ফুলবাড়ীয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক ভোগান্তির শেষ নেই !

মো: আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়িয়া : ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ফুলবাড়ীয়া জোনাল অফিসের আওতাধীন গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। কাক ডাকা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আর পূণ: সংযোগে এক অবস্থানে গ্রাহক সেবার নামে নিচ তলা ও উপর তলার টেবিলে টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে দিশেহারা। এ হয়রানি থেকে মুক্তি চায় সাধারন গ্রাহক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসের পশ্চিম পার্শ্বের একটি জানালার সামনে দুই সারিতে মানুষ দাঁড়ানো। একটিতে মহিলা ও অন্যটিতে পুরুষ। পুরুষের সাড়ি একে বেঁকে প্রায় প্রায় হাফ কিলোমিটার। আবার একেকজনের কাছে ৮-১০ টি পর্যন্ত বিলের টাকা নিয়ে লাইনে দাড়িয়েছেন। অফিসের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলে কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায় ফলে অনেকে লাইনে থাকলেও তারা আর ঐদিন বিল দিতে পারেন না। নির্ধারিত সময়ে বিল দিতে না পারায় অনেক কে জরিমানা গুনতে হয়।
একই স্থানে দক্ষিণ পার্শে যেখানে এক অবস্থানে গ্রাহক সেবা লেখা সেখানেও একই অবস্থা। মিটার পুড়ে যাওয়া, ডিসি/আরসি, মিটার, তার, এক্সফরমার, সকেট সহ অন্যান্য বিষয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে এখানে একজন সেবাদানকারী রয়েছে। একজন গ্রাহক এখানে আবেদন করে উপর তলায় তথ্য আনার জন্য যেতে হয়, সেখান থেকে নিচে নেমে প্রিন্ট কপি নিয়ে আবারও উপরে যেতে হয় বিএস এর স্বাক্ষরের জন্যে, পরে আবার নিচে নেমে কাউন্টারে টাকা জমা দিতে হয়।
১৯৯৯ সালের ১৩ নভেম্বর ফুলবাড়ীয়াতে পিবিএস-১ এর কার্যক্রম শুরু করে । শুরু থেকেই একজন ক্যাশিয়ার দিয়ে সকল ধরনের ক্যাশ গ্রহণ করা হচ্ছে, যদিও বর্তমানে একাধিক ক্যাশিয়ার রয়েছে দফতরটিতে কিন্তু একটি মাত্র কাউন্টার দিয়েই টাকা গ্রহণ করা হয়। কৃষি ব্যাংক শাখায় বিদ্যুৎ বিল নামমাত্র নেয়ায় অফিসে দিন দিন চাপ বেড়েই চলছে। প্রায় প্রতিদিনই শত শত গ্রাহক নতুন করে সংযোগ নিয়ে সমিতির সদস্য হচ্ছেন। অথচ সেবা গ্রহিতাদের কথা কেউ চিন্তা করছে না।
বর্তমানে অত্র সমিতির গ্রাহক সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬২৭জন। সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়াার অঙ্গীকার নিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করছে তা বাস্তবায়িত হলে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ।
এক অবস্থানে গ্রাহক সেবার নামে একজন গ্রাহককে ৪ টি টেবিলে আসা যাওয়ায় হয়রানির মাত্রা অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি মাত্র কাউন্টার দিয়ে টাকা জমা নেওয়ায় গ্রাহকের ভোগান্তির অন্ত নেই।

পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম অনিতা বর্ধন জানান, জোনাল অফিসে ৩ জন ক্যাশিয়ার থাকার কথা, আমাদের ৩ জনই আছে, ফুলবাড়ীয়াতে ব্যাংকের সংখ্যা কম থাকায় অফিসে চাপ বাড়ছে। সফটওয়্যার সমস্যাজনিত কারণে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে স্বীকার করে ডিজিএম বলেন আইটি বিভাগে যোগাযোগ হয়েছে তা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।