| |

কিশোরগঞ্জে ভিজিএফের চাল রেখে পালাল তারা

নজরুল ইসলাম খায়রুল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভিজিএফের চাল রেখে পালিয়েছে আত্মসাৎকারিরা।

গতকাল বুধবার (১৩ জুন) দুপুরে ভিজিএফ চাল নিতে আসা সুবিধভোগিদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। এসময় পরিষদের সামনে তিন বস্তা চাল পড়ে ছিলো। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী একটি তালাবদ্ধ দোকানে চালের বস্তা রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, গতকাল বুধবার (১৩ জুন) সকাল থেকে দুপুরে পর্যন্ত পরিষদ থেকে ভিজিএফ চাল নিতে কয়েকশ লোক জড়ো হয়। এসময় বেশ কয়েকজন লোক চাল নেয়ার স্লিপ জমা দিলে তাদের চাল দেয়া হয়নি। এনিয়ে সকাল থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এছাড়াও সুবিধাভোগিদের মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে ৬ কেজি থেকে ৭ কেজি পরিমাণ দেয়া হয়েছে।

উত্তর নান্দলা গ্রামের আব্দুর রাশিদের স্ত্রী ও সুবিধাভোগি ফুলবানু জানান, আমাকে যে পরিমাণ চাল দেয়া হয়েছে তা দেখেই মনে হয়েছে কম দিয়েছে। পরে পাশেই বাজারের দোকানে মেপে দেখি মাত্র ৬ কেজি চাল।

এদিকে কমমূল্যে চাল কেনার জন্য পরিষদের চৌকিদার আজাহারুল ও ফেরদৌসের সহায়তায় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে দেদারচ্ছে এ ভিজিএফের চাল কিনে মজুদ করে। এসব বিষয় জানাজানি হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে বিক্ষুব্দ লোকজন পরিষদের সামনেই বিক্ষোভ করেন। পরে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনেন।

সকালে চাল নিতে আসেন ওই ইউনিয়নের চৌদ্দশত পশ্চিমপাড়া এলাকার হাবিজ উদ্দিনের ছেলে হযরত আলী (৫০)। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চাল নিতে গিয়ে দেখেন তার নাম নাই। তিনি চাল নিতে পারেননি।

তিনি জানান, আমার নাম তালিকায় আছে জেনেই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল পেলাম না। আমার নাম কেটে দিয়ে অন্যকে এ চাল দেয়া হয়েছে।

ওই ইউনিয়নের চৌদ্দশত পশ্চিমপাড়ার তোরাব আলীর ছেলে নওয়াব আলী (৬৫) জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগিদের চাল না দিয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন চাল পাচার করে দিয়েছে।

চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবি সিদ্দিক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমার ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ ২৭ মেট্রিক টন ২৩০ কেজি। গত দুইদিন ধরে সুষ্ঠুভাবে সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও আজ বৃহস্পতিবার বাদবাকি চাল বিতরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও তদারকি কর্মকর্তা এবিষয়ে কিছুই জানাননি। তবে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ হয়েছে বলে তারা আমাকে রিপোর্ট করেছে।