| |

জেলা প্রশাসন ও আদালতকে ফাঁকি দিয়ে সরকারী সম্পত্তি তাজমহল গেষ্টহাউজস্থলে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে একটি চক্র

স্টাফ রিপোর্টার ঃ উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের অবসান ও দেশভাগের পর হতে এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ নগরীর বহু কোটি টাকার সরকারী ও সরকারে অর্পিত সম্পত্তি বেহাত গেছে। আরো অনেক সম্পত্তি বেহাত যাওয়ার পাইপ লাইনে (প্রক্রিয়ায়) আছে। বেহাত যাওয়া ও বেহাতের প্রক্রিয়ায় থাকা সরকারী সম্পদের মধ্যে রয়েছে ভূমি, ভূমিসহ বাসা-বাড়ি-স্থাপনা ও ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর-জলাশয়। সরকারী সম্পদ-ভূমিসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর সমূহে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নমনীয়তা, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতির কারণে প্রভাবশালী-বিত্তশালী ভূ-সম্পদ লোভীরা জাল দলিল ও রেকর্ডপত্র সৃজনের মাধ্যমে এসব সম্পদ আত্মস্থ করেছে এবং আত্মস্থ করে চলছে। দখলবাজি-কব্জাবাজির দৌরাত্ব দিন দিন বাড়ছেই । দখলবাজির দৌরাত্ব কোনভাবেই থামছে না, কেউ তা থামাতেও পারছেন না। সম্প্রতি এরূপ একটি ঘটনা ঘটে চলছে ময়মনসিংহ নগরীতে।
নগরীর রেলষ্টেশন ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন সরকারী তথা সরকারের অর্পিত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তাজমহল রেষ্টুরেন্ট বর্তমানে তাজমহল গেষ্ট হাউজকে সম্পূর্নভাবে নিজস্ব করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে একটি চক্র। এই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে যথাযথ মোকদ্দমা চলা সত্বেও লোভী চক্রটি আইনের বা বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে ওই স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও আদালতের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চক্রটি সামনে (রোড সংলগ্ন) পুরানো দেয়াল ঠিক রেখে এবং এর উপর চট দিয়ে আড়াল করে গোপনে গোপনে প্রায়২মাস ধরে নির্মান কাজ করছে। তাদের কাঙ্খিত ও নির্মিতব্য সুউচ্চ ভবনের আর সি সি পিলারগুলো দ্বিতল-ত্রিদল সম উপরে উঠার পরই বিষয়টি সর্বসাধারনের চোখে পড়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সরকারের অর্পিত এই সম্পত্তি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ নিয়মে লীজে নিয়ে তাজমহল রেষ্টুরেন্ট নামের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। মহারাজা রোড নিবাসী জনৈক বাচ্চু মিয়া রেষ্টুরেন্টটি বহু বছর পরিচালনা করেন। এর পর এটির দায়িত্ব দেয়া হয় তারই পুত্র জুয়েল ও কোয়েলকে। ভ্রাতৃদ্বয় ইদানিং প্রতিষ্ঠানটি নগরীর স্টেশন রোডের নূরজাহান কমপ্লেক্স এর মালিক মরহুম আমীর সাহেবের ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পুত্র হারুন এর নিকট ভাড়ায় দেন। অপরদিকে সৃজিত জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এই সম্পদের মালিকানার জন্য আদালতে মামলা থাকা সত্বেও ভাড়াটে হারুন আরো কতিপয় সম্পদলোভীদের নিয়ে অবৈধভাবে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণে বেপরোয়া হয়ে পড়েন। অনিয়মের ও জবরদস্তির এই বিষয়টি সর্বসাধারনের চোখে ধরাপড়লেও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছোট-বড় কারো চোখে আজো পড়েনি। এব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কঠোর দৃষ্টি প্রয়োজন ।