| |

শ্রীবরদীতে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে গুচ্ছগ্রাম স্থাপনের কাজ শুরু

তাসলিম কবির বাবু, শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি
শ্রীবরদীর গোশাইপুর ইউনিয়নের গিলাগাছা গ্রামে ভূমিহীনদের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে গিলাগাছা বন্দর গুচ্ছগ্রাম স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতেকরে উচ্ছেদকৃত ৯ টি ভূমিহীন পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। একমাত্র মাথাগুজার ঠাই নিজেদের বসতভিটা গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প কেড়ে নেওয়ায় চরম হতাশায় ভূগছে ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা। ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে ভূমিহীন পরিবার গুলোকে উচ্ছেদ করে যাতে গুচ্ছগ্রাম তৈরী না হয় সেজন্য ভূক্তভোগী রবিউল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ শেরপুর সহকারি জজ আদালতে অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীগণ যাতে বাদী পক্ষের ভূমি জোড়পূর্বক বেদখল করে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করতে না পারে তৎমর্মে শেরপুর সহকারী জজ আদালত উক্ত ভূমিতে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জোরপূর্বক ভূমিহীন পরিবারগুলোর ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে, গাছ-পালা কেটে উক্ত প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী’র গোশাইপুর ইউনিয়নের গিলাগাছা গ্রামের আব্দুল হামিদ, রবিউল ইসলাম, আব্দুস ছাত্তার, রাজা মিয়া, বাদশা মিয়া, হযরত আলী, আব্দুল হান্নান, আশরাফ আলী ও আবুল হোসেন উত্তর গিলাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আরএস ১১৫৩ নং দাগের ৩.৩২ একর ভূমিতে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন। সেখানে তারা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, গাছ-পালা রোপন, পুকুর খনন ও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। উক্ত ভূমি থেকে ৫০ শতাংশ রবিউলের নামে এবং ১.০৯ শতাংশ ভূমি আব্দুল হামিদের নামে শ্রীবরদী-গোশাইপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃক নামজারী ভূক্ত করা হয়েছে। একই ভূমিতে উত্তর গিলাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান মাটি ভরাটের কাজ করতে গিয়ে বসতকৃত ৯টি পরিবারের মধ্যে ৭টি পরিবারকে জোড় পুর্বক ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে ও গাছ-পালা কেটে উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া, ফসলের জমি ও পুকুর ভরাট করে গুচ্ছগ্রামের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
এব্যাপারে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান জানান, সরকারের খাস জমিতে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। উক্ত খাস জমিতে অবৈধভাবে ওই পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে। গুচ্ছগ্রামের কাজ শুরু হওয়ার পর রবিউল ও আব্দুল হামিদ শেরপুর সহকারি জজ আদালতে মামলা দিয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গোশাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম যোবায়েল ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট গিলাগাছা বন্দর গুচ্ছগ্রাম নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। উক্ত প্রস্তাবটি ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট গিলাগাছা বন্দর গুচ্ছগ্রাম নামে অনুমোদন হয় এবং মাটি ভরাট কাজের জন্য ১০৭.৭৩৮ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারী থেকে ওই গ্রচ্ছগ্রামের কাজ আরম্ভ করা হয়েছে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারুক আল-মাসুদ জানান, সরকারি খাস জমিতে গুচ্ছগ্রামের কাজ শুরু হওয়ার পর ওই জমিতে বসবাসরত দুই পরিবার সহকারি জজ আদালতে মামলা করেছেন। এনিয়ে আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আমাকে অবগত করা হয় নাই।