| |

ভালুকায় একাধিক স্পটে জমজমাট জুয়ার আসর

ভালুকা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী, ভরাডোবা ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নে চলছে বেশ কয়েকটি রমরমা জুয়ার আসর। প্রতিরাতে ওইসব জুয়ার আসরে লাখ লাখ টাকা হাত বদল হয় বলে এলাকাবাসী জানায়। থানা পুলিশ পক্ষে থাকায় অবাধে চলছে ওইসব জুয়ার আসর। পুলিশ অজ্ঞাত করাণে উপজেলার অন্যান্য এলাকা থেকে ছিচকে জুয়াড়িদের পাকড়াও করলেও পা বাড়ায়না তাদের অনুমদিত আসরগুলোতে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, থানাকে ম্যানেজ করে নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ জুয়ার আসর বসিয়েছেন উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ি শিল্প এলাকায় আলাল উদ্দিন, কাশর গ্রামে সাবেক মেম্বার হারুন-অর-রশিদের ছোট ভাই হবিবুর রহমান, হবিরবাড়িতে আতাবুর, চৌরাপাড়ায় পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিত সবুজ, জামিরদিয়া নারিশ পোল্ট্রি এলাকায় হেলাল উদ্দিন। একই পথ ধরে উপজেলার ভরাডোবা ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকার জুয়ার আসর চলছে আবুল হাশেম সরকার ও কবির উদ্দিনের নেতৃত্বে। দূরদূরান্তের জুয়াড়িরা প্রাইভেট কারে করে এসে ওইসব আসরের জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে থাকে। এদিকে, পেশাদার জুয়াড়িদের খপ্পরে পড়ে অবাধ ওইসব জুয়ার আসরে প্রতি রাতেই ভিড় করছে এলাকার স্কুল-কলেজগামী ছাত্র ও উঠতি বয়সের যুবকেরা। অপরদিকে, প্রতিদিন ২০ থেকে ১০০টাকার টিকিটে উপজেলার জামিরদিয়া স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় লটারি আসর বসানো হচ্ছে কমপক্ষে ছয়টি স্পটে। বড় পর্দায় নাচ গানের দৃশ্য দেখানোর মাধ্যমে লোক জমায়েত ও মাইকে মূলবান, লোভনীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত বিক্রি করা হয় লটারির টিকিট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ওইসব জুয়ার বসায় যানজট সৃষ্টি হয় স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায়। নিজ এলাকায় চলমান জুয়ার আসর সম্পর্কে ভরাডোবা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্ আলম তরফদার বলেন, ‘আমার এলাকার জুয়া আসর বন্ধের বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার থে কথা বলেছি। উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, “পাশ্ববর্তী গাজীপুর জেলার সালনা ও শ্রীপুর এলাকায় জুয়া খেলা চলছে। আমাদের এলাকায় জুয়া খেলা বসলে ক্ষতি কি।” কাজেই, জুয়া খেলা বন্ধ করার দায়িত্ব যাদের কাছে তারাই যদি এসব বলেন, তখন জুয়াড়িরা আরো বেশী উৎসাহীত হয়।’
উপজেলা আইন শংখলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার কালের কন্ঠকে জানান, হবিরবাড়ি এলাকার জুয়ার আসরের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা কালের কন্ঠকে জানান, জুয়ার আসরগুলো বন্ধের ওসিকে বলা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী উপজেলা এবং জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় আলোচনা করা হবে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জানান, ভালুকায় জুয়ার আসরের বিষয়ে তার জানা নেই।