| |

ঈশ্বরগঞ্জে ভুয়া ১১ শিক্ষকের তালিকা নিয়ে তোলপাড়

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তিনটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের নতুন তালিকা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে । উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়,১৯৯৪ সালে দুই জন করে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলার বাখুরীপাড়া,গিরিধরপুর ও উজান চর নওপাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। দুই জন করে শিক্ষক নিয়েই ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি বিদ্যালয় গুলো জাতীয় করন হয়। এ সময় প্রধান মন্ত্রী বলেছিলেন দেশে আর নতুন করে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যাবেনা এবং শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাবেনা। এই বিদ্যালয় গুলোতে দু’ জন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পর ম্যানেজিং কমিটি আর কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি । অথচ ২০০৯ সাল থেকে এ তিন বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বরাবর চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উজান চরনও পাড়া কমিউনিটি বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক দাবি করে হুমায়ুন কবির ১১ শিক্ষকের স্থায়ী নিয়োগের জন্য আবেদন করেন । মন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নুজহাত ইয়াসমীনকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থার নির্দেশ দেন । উপ-সচিব গত ১৯শে অক্টোবর বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন । জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে গতকাল রোববার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী সিদ্দিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের ডেকে জিজ্ঞাসা করার পর জানতে পারেন ওই বিদ্যালয় গুলোতে আবেদনকৃত ১১ জন শিক্ষক কোন দিনই কর্মরত ছিলেননা। তিনি আরও জানান জানান ১১ জন শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত কোন তথ্যাদি শিক্ষা অফিসে নেই। যাদের কোন নিয়োগ নেই তারা কি করে শিক্ষক দাবি করেন এ নিয়ে উপজেলায় ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এই ১১ জন শিক্ষক সর্ম্পকে এলাকাবাসী ও স্কুল পরিচালনা কমিটি কিছুই জানে না । নতুন ১১ শিক্ষকের তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন উজান চরনও পাড়া কমিউনিটি স্কুলে হুমায়ুন কবীর,জিবুন নাহার,মিজানুর রহমান, গিরিধরপুর স্কুলে আফসানা আক্তার মিমি,পারুল আক্তার,মমতাজ বেগম,মাসুদা খাতুন, বাখুরীপাড়া স্কুলে বোরহান উদ্দিন, রতন মিয়া, শাহানাজ বেগম ও সাবিনা ইয়াসমীন। । অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, হয়ত কোন জালিয়াত চক্র ভূয়া আইডি নম্বর ব্যবহার করে ওই শিক্ষকদের নিয়োগের পায়তারা করছে । তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন ।