| |

ফুলবাড়ীয়ার কালাদহে ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাউল নিয়ে চালবাজি

মো: আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়ীয়া : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নে ঈদের আগে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে ভিজিএফ’র চাউল বিতরনের কথা থাকলেও তা বিতরন করা হচ্ছে ঈদের পরে। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভিজিএফ বিতরণকালে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়ে কয়েকজন উপকারভোগির চাউল পরিমাপ করে চাউল কম দেয়ার সততা পাওয়া যায়। বিতরণের শেষ পর্যায়ে প্রায় ৭০ বস্তার মতো চাউল উদ্বৃত্ত থাকে। স্থানীয়রা বলছেন গরিব ও দু:স্থরা চাউলের কার্ড না পাওয়ায় কার্ডগুলো কালো বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে। আপনারা (সংবাদকর্মীরা) স্থান ত্যাগ করলে তা ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করা হবে।
ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডধারীদের চাউল বিতরণে কম দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সততা যাচাইয়ের জন্যে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দোকানে উপকারভোগির কার্ডের চাউল ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৫জন কার্ডধারীর চাউল পরিমাপ করা হয়, প্রত্যেকের কার্ডে ৭ থেকে ৮ কেজি চাউল পাওয়া যায়। বিতরণকালে ট্যাগ অফিসার কে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও ৪নং ওয়ার্ডের উজ্জলসহ চার কার্ডের চাউল পরিমাপ করে সেখানে পাওয়া যায় ৭ কেজি করে।
৮-১০ বছর বয়সের অনেক বাচ্চা কে একাধিকবার চাউল উত্তোলন করতে দেখা গেলে, সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানের দৃষ্টি গোচর হলে, উপস্থিত বিতরণকারীদের সাফ জানিয়ে দেন একজন যাদে দু’বার না আসতে পারে। উত্তোলনকারীরা শিশুরা জানিয়েছেন, প্রতিকার্ড চাউল তুলে দিতে পারলে ১০ টাকা করে মিলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিয়ারা (চাউল ক্রেতা) জানান ১৪০-১৬০ টাকা ধরে কার্ড কিনেছেন, উঠানো বাবদ ১০ টাকা খরচ। ঈদ কেন্দ্রিক ভিজিএফ ঈদের আগে বিতরণ করা কথা থাকলেও চেয়ারম্যান চাউল তুলে ইউপি গুডাউনে মওজুদ করে কারসাজির মাধ্যমে ঈদের পরে বিতরণ করায় অনেক অস্বচ্ছলরা বাদ পড়েছেন বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চাউল উদ্বৃত্ত বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো: নুরুল ইসলাম মাস্টার জানান, বাহিরের গুডাউন থেকে আনার কারণে চাউল বেশি হয়েছে, আমাদের উপজেলা গুডাউন থেকে আনলে কম পড়তো। উদ্বৃত্ত চাউল উপস্থিত গরিব ও এতিমখানায় দিয়ে দেয়া হবে বলে তিনি প্রতিবেদক কে নিশ্চিত করেছেন। ট্যাগ অফিসার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, তিনি সকালে এসেছিলেন আপনারা আসার কিছুক্ষন আগে তিনি চলে গেছেন।