| |

হালুয়াঘাটে খড় বিক্রি করে ধানের ভর্তূকী তুলছেন কৃষকরা

জোটন চন্দ্র ঘোষ, হালুয়াঘাট : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১২টি ইউনিয়নে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো লক্ষ লক্ষ টাকার খড় বিক্রি হচ্ছে। খড় বিক্রি করে বোর মৌসুমে বিআর ২৮ ধানে ব্লাষ্ট রোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ধানের ভর্তূকী তুলছেন। দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রেতার সংখ্যা। পাশাপাশি চাহিদা বেশী থাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে খড়ের মূল্য।
জানা যায়, প্রতি বিঘা জমির খড় বিক্রি হচ্ছে পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা। বিআর ২৮ ধানে ব্লাষ্ট রোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৭ মণ ধান মাড়াই করতে পাড়লেও কৃষকগণ প্রতি বিঘা জমি বোর চাষাবাদে খরচ করেন প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা। তুলনামূলক আবাদী জমিতে ধান না পাওয়ায় যতœসহকারে খড় সংরক্ষণ করেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পাইকার ও খামারিরা অত্র উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চল থেকে খড় ক্রয় করছেন। ৫০ শতক জমির খড়ের পুঞ্চি বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। গরু-বাছুর ও মহিসের প্রধান খাদ্য হিসেবে পরিচিত এই খড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায়। খড় বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
একাদিক খড় বিক্রেতা কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় বিভিন্ন জাতের ধানের খড় বিক্রি করে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। অতিবর্ষণ ও বন্যার পানিতে তলিয়ে অনেকের ধানের পাশাপাশি খড় ও নষ্ট হয়েছে। ধান কাটার শুরু থেকে মণ প্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা ধরে ধান বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। ধানের গো-খাদ্য খুদি, কুড়া, ভুষি ও নালিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারি, পাইকার ও কৃষকদের কাছে বেশি দামে খড় বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই খড় বিক্রি করে সংসারের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন।
বৈলর এলাকার খড় ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার বড়দাসপাড়া,কুমুরিয়া,গাজিরভিটা বাঘাইতলাসহ ধারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে পুঞ্চি হিসেবে খড় ক্রয় করছেন। দৈনিক প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকার খড় ক্রয়-বিক্রি করছেন তিনি। প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চল থেকে খড় ক্রয় করে পৌর শহরে শ্রমিক দিয়ে আনার পর ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করছেন। আগের তুলনায় এখন শ্রমিকের মুজুরী বেশী পাশাপাশি গাড়ী ভাড়াও চালকরা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। হালুয়াঘাট থেকে বৈলর পর্যন্ত এক ট্রাক খড়ের ভারা গোনতে হয় ৬ হাজার টাকা। শ্রমিকদের দিন হাজিরা দিতে হয় ৭০০ টাকাসহ খোরাকী বিল। তাছাড়া খড়ের চাহিদা বেশী থাকায় কৃষকরা বাড়িয়ে দিচ্ছেন খড়ের দাম। ঘরে প্রতি মাসে খরচ মিটিয়ে প্রায় দশ থেকে পনের হাজার টাকা লাভ করা যায় বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুলতান আহমেদ বলেন, বোর মৌসুমে অত্র উপজেলায় ২০ হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে বোর ধানের চাষাবাদ করা হয়। কিন্ত শীলা বৃষ্টি ও অতিবর্ষণ, বন্যার পানিতে এবং নেক ব্লাষ্ট রোগে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বোর আবাদী ফসলের আংশিকক্ষতি সাধিত হয়। তথাপি অত্র উপজেলায় খাদ্যের কোন প্রকারের ঘাটতি নেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অত্র উপজেলা থেকে খাদ্য শষ্য রফতানি করা হয়। খড়ের চাহিদা বেশী থাকায় বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ও পাইকারগণ কৃষকদের নিকট থেকে খড় ক্রয় করায় স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।