| |

গোপালপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ; ধর্ষক ও সহযোগি গ্রেফতার

এ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ধর্ষনের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে দুই লক্ষ টাকা দাবীর অভিযোগে এক ধর্ষক ও তার সহযোগিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) গ্রেফতার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাথালিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে গোপালপুর থানায় গণধর্ষণ ও পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, বাবা-মা’র বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় পর বিধবা নানীর কাছে থেকে উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের উত্তর পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ওই ছাত্রী লেখা-পড়া করতো।
গত ১৬ এপ্রিল ওই ছাত্রী উত্তর পাথালিয়া গ্রামের পড়শি ফজলু মিয়ার বাড়ির ফ্রিজে রাখা দুধ আনতে যায়। ফজলু মিয়ার স্ত্রী জোছনা বেগমের যোগসাজশে একই গ্রামের হাসেন আলীর বখাটে পুত্র মজনু (৩০) এবং শামসুল হকের পুত্র সোহাগ (১৫) ওই স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ঘরে আটকিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।
এসময়ে তারা গণধর্ষনের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে রাখে। ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় ওই স্কুলছাত্রীর দরিদ্র নানী সাহেরা বেগম ঘটনাটি বাধ্য হয়ে চেপে যান। পরে গোপনে স্থানীয়ভাবে ওই ধর্ষিতা ছাত্রীকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
ধর্ষিতার মা লাভলী বেগম অভিযোগ করেন, তাদের দারিদ্রতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ধর্ষকরা পুনরায় শিশুটিকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য বাড়িতে এসে হুমকি-ধামকী দিতে থাকে। এমতাবস্থায় শিশুটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ধর্ষিতা শিশুটিকে টাঙ্গাইল শহরের এক আত্মীয় বাড়িতে নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়।
গত ৯ জুন ধর্ষকরা ধর্ষিতা শিশুর নানী বাড়ি গিয়ে নানী সাহেরা বেগমের হাতে ধর্ষনের প্রমাণ হিসাবে একটি মোবাইলের মেমোরি কার্ড গছিয়ে দেয়।
গতকাল ২৮ জুন বৃহস্পতিবার ধর্ষিতার মা লাভলী বেগম ৩জনকে আসামী করে গোপালপুর থানায় গণধর্ষণ ও পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মজনু মিয়া ও তার সহযোগি জোছন বেগমকে গ্রেফতার করে। অপর ধর্ষক সোহাগ পলাতক রয়েছে বলে জানান থানা পুলিশ।
মামলাটি তদন্ত করছেন গোপালপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সোহরাব হোসেন।