| |

হালুয়াঘাটে পাট চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকের

জোটন চন্দ্র ঘোষ,হালুয়াঘাট : হালুয়াঘাটে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক, এক সময়ের সোনালী আঁশ হিসেবে খ্যাত পাটের চাষ এখন অনিহার পথে। জনসংখ্যা বৃদ্ধরি সাথে সাথে কৃষি জমি অকৃষিতে পরিণত হওয়া, স্বল্প সময়ে জমিতে অধিক ফসল ফলানোর প্রবণতা, পাট পচনের পানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পাট চাষ যেন এখন কৃষকের অনিহা আর অবহেলায় পরিণত হয়েছে। প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে এক সময়ের এদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল সোঁনালী আঁশ হিসাবে খ্যাত পরিবেশ বান্ধব পাটের চাষ। কৃষকগণ পাট চাষে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পাটের ভরা মৌসুমেও পাট মিলেনি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে। এদিকে পাট চাষে আগ্রহ হারনোর পেছনে প্রতি বছর বাজারে পাটের মূল্য দরপতনকে দায়ী করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে পাটের মূল্য দরপতন, উৎপাদন খরচ বেশি ও পাট পচানো পানির অভাব,১ বিঘা জমিতে গড়ে ৭ থেকে ৮ মণ পাট উৎপাদন হয়। প্রতি মণ পাট সর্বোচ্চ ৮শত টাকা দরে বিক্রি হয়। তাই কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ৬০এর দশকে দেশের খ্যাতমান পাটক্রয় কেন্দ্র ছিল হালুয়াঘাট উপজেলা। স্থানীয় পাইকাররা পাটক্রয় করে দেশ বিদেশের বিভিন্ন জুটমিলে সরবরাহ করতেন। সে সময় সরকারী ও বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন শত শত টন পাট ক্রয় করা হতো চাষীদের নিকট থেকে। ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে কৃষকেরাও ঝুঁকে পড়তো ব্যাপক হারে পাট চাষে।
শুধু দেশেই নয় বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে আকাশ পথে পাট রপ্তানি করা হতো বিদেশে। বর্তমানে উপজেলার কৃষকেরা আগের মতো পাট চাষ করেন না। কৃষকদের দিনি দিন কমছে পাট চাষের আগ্রহ। পাটের চাষ কম হওয়ায় জ্বালানী কাজে ব্যবহার্য পাটখড়ির মূল্য আকাশচুম্বি হয়েছে।
উপজেলার বীরগুছিনা গ্রামের কৃষক হাবীবুর রহমান হাবীব জানান, ৬০ এর দশকে অত্র উপজেলা ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। সে সময় আমরা ব্যাপকহারে পাট চাষ করতাম। পাটের ন্যায্যমূল্য ও পেতাম। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি মূল্য কম। পাশাপাশি রয়েছে শ্রমিকের সংকট একজন শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা ৭০০শত থেকে ৮০০শত টাকা দিতে হয়। এ জন্য আমরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। তার পরও হাইব্রীড জাতের পাট প্রায় ২৫০ শতক জমিতে চাষ করেছেন তিনি। দেশীয় জাতের পাটের ফলন কম হওয়ায় তিনি হাইব্রীড জাতের পাট চাষ করছেন। গত দু বছর থেকে পাট চাষ করে পাট পচানো পানির অভাবে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুলতান আহমেদ জানান, বিগত বছরগুলোতে পাটের বাজার মন্দ থাকায় এই ফসলের প্রতি চাষিদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল বর্তমান সরকার খাদ্য দ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবেশ বান্ধব পাটের মোড়ক বহুবিদ ব্যবহার করায় পাট চাষের আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি জানান ।