| |

ভালুকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন ব্যক্তি অপহরণ: মুক্তিপণে উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা ভালুকা ময়মনসিংহ ০১ জুলাই ঃ ভালুকা উপজেলায় মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের সাতেঙ্গা গ্রামে তিন ব্যক্তি মসজিদের টাইল্স কিনতে যাওয়ার পথে শনিবার দুপুরে ভালুকা বাস্ট্যান্ড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন ব্যক্তিকে অপহরণ করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরিবারের লোকজন ভালুকা মডেল থানা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করিলে পুলিশের তৎপরতায় ও মুক্তিপণের টাকার বিনিময়ে ২৮ ঘন্টা পর রবিবার বিকালে বাড়ি ফিরেছে ওই তিন ব্যক্তি।
জানা যায়, উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের সাতেঙ্গা গ্রামে খাঁন মসজিদের সভাপতি বেলাল খানের ছেলে আঃ রহমান খান (৫৫), মৃত আলফাজ আলী মুন্সীর ছেলে মোর্শেদুল আলম ধনু (৪৫), দেলোয়ার খাঁনের ছেলে কফিল উদ্দিন ফকির (৩০) শনিবার সকালে বাড়ি থেকে মসজিদের টাইল্স কিনার উদ্দেশে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড আসলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কালো রং এর হায়েজ গাড়ীতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে অপহৃত ব্যক্তিদের মারপিট করে তাদের মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তাদের আহজারি শুনিয়ে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন।
পরিবারের লোকজন তাদেরকে ছাড়িয়ে আনতে ০১৯০৯৬০২০৩১, ০১৭৯১৮৬৬০২৯, ০১৯০৯৬০২০৩০ বিকাশ নাম্বারে মোট ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা দিয়েও মুক্তি না পাওয়ায় রাতে কফিলের মা কুলছুম আক্তার বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভালুকা মডেল থানার এস,আই মনির হোসেন অপহৃতদের উদ্ধারের জন্য রাতেই ঢাকার উত্তরা, টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কোন সন্ধান করতে পারেনি।
পর দিন রবিবার সকালে পরিবারের লোকজনের কাছে মোবাইল ফোনে অপহরণকারীরা পূনারায় ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরিবারের লোকজন দুই বারে আরও ১০ হাজার টাকা বিকাশ নাম্বরে পাঠানো পর ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে খবর পেয়ে অপহরণ কারীরা ভয়ে তাদেরকে ঢাকার আব্দুল্ল­াহপূর এলাকায় ছেড়ে দেয়।
খান মসজিদের সভাপতি আঃ রহমান জানান, মসজিদের টাইলস কেনার জন্য ভালুকা বাস্ট্যান্ডে আসলে আমাদের ৩ জনকে ডিবি পুলিশ পরিচরয়ে একটি লম্বা গাড়িতে তুলে নিয়ে আজ্ঞাত স্থানে রেখে ব্যাপক নির্যাতন করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরিবারের লোকজন বিকাশের মাধ্যমে ৪৫ হাজার ৯শত টাকা পাঠানোর পর রবিবার দুপুরে আমাদেরকে আজ্ঞাত স্থান থেকে চোখ বেঁধে ঢাকার আব্দুল্লাপুর এলাকায় ছেড়ে দেয়।
ভালুকা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, তারা নিখোঁজ হয়ে ছিলো। অপহরণ হলে একজন হতে পারে এক সাথে ৩জন লোক অপহরণের বিষয়টি রহস্য জনক। নিখোঁজ ব্যক্তিরা থানায় এসেছে। তাদের সাথে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।