| |

কলমাকান্দায় স্কুলশিক্ষকের মৃত্যুতে মিছিল, থানা ঘেরাও

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার কলমাকান্দার বড়খাপন ইউনিয়নের উদয়পুর মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বকেয়া বেতন রেখে পরীক্ষা দিতে নিষেধ করায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের দ্বারা প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সাঈদী লাঞ্ছিত হয়ে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও লাঞ্ছনাকারীদের বিচারের দাবীতে সোমবার পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও এবং সমাবেশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে অংশ নিয়েছেনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এ ঘটনায় শিক্ষকের ভাই আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে শিক্ষর্থীর অভিভাবক জয়নগর গ্রামের চান মিয়া, বড়খাপন ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার জজ মিয়াসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত সংখ্যক আসামি করে সোমবার কলমাকান্দা থানায় মামলা করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে উদয়পুর মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ রোববার সকাল ১০টার দিকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিতে যায়। বেতন বকেয়া রেখে পরীক্ষা দিতে নিষেধ করেন প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীর বাবা চান মিয়া ক্ষিপ্ত হন। তিনি কয়েকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান এবং শিক্ষকের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। এতে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রাত নয়টার দিকে তিনি মারা যান। শিক্ষকের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে আসেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং লাঞ্ছনাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জণ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ওই মিছিলে ইউনিয়নের জয়নগর, পুটিকা, উদয়পুর, বাঘসাত্রা, ডুবিয়ারকোনা, গুতুরা, পোগলাসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং স্থানীয় বড়খাপন ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারগন অংশ গ্রহন করেন। বিদ্যালয় চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে গুতুরা বাজার হয়ে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলকারীরা কলমাকান্দা থানা ঘেরাও করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন-কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আজাদ, বড়খাপন ইউপি চেয়ারম্যান একেএম হাদিছুজ্জামান হাদিস প্রমুখ। এ ঘটনায় মৃত প্রধান শিক্ষকের ভাই আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে জয়নগর গ্রামের চান মিয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার জজ মিয়াসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত সংখ্যক আসামি করে সোমবার কলমাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পরে কলমাকান্দা থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে মিছিলকারীরা চলে যায়।
কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে ছাত্র অভিভাবকের পরীক্ষা দেয়া নিয়ে ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় অসুস্থ্য হয়ে শিক্ষক মারা গেছেন। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকের ভাই মামলা করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, শিক্ষকের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্বজনরা নিয়ে আসে। ওই লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য কলমাকান্দা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।