| |

করিমগঞ্জের আঙ্গুর বাহিনীর তান্ডবের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নজরুল ইসলাম খায়রুল,প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের পল্লীতে আঙ্গুর বাহিনীর তান্ডব ও আঙ্গুর বাহিনীর সশস্ত্র হামলায় জয়কা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হাসান গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার ঝাউতলা বাজারে এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ মিয়া, ফজলুর রহমান, ঝাউতলা বাজারের ব্যবসায়ী আবিদুজ্জামান জয়, জামাল মিয়া, হাফেজ হারুন-অর-রশিদ, জাপা নেতা লুৎফর রহমান মেনুসহ অন্যরা। বক্তরা আবুল হাসানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সেই সাথে সন্ত্রাসী আঙ্গুর মিয়া, সোহাগ, শাহীন, আপুসহ সন্ত্রাসী বাহিনীর অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এদিকে প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার অপরাধে কর্মসূচী চলাকালে আঙ্গুর বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় রতনপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বসতঘর ভাঙচুর ও তছনছ করেছে। এ সময় হামলাকারীরা ৭ম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী শাহানা (১৩), গৃহবধূ আকলিমা (২৫) ও জুয়েলকে (২০) কুপিয়ে আহত করেছে। আহতের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন যাবত রামনগর, রতনপুর, কলাবাগসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। নিরীহ মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের অত্যাচার, নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হচ্ছে। অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন ধরণের একাধিক মামলা থাকার পরও আঙ্গুর বাহিনীর দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি রতনপুর গ্রামের সমাজসেবক আবুল হাসান জয়কা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে তৎপরতা শুরু করলে স্থানীয় একটি পক্ষ এতে নাখোশ হয়। পক্ষটি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হাসানকে শায়েস্তা করতে আঙ্গুর বাহিনীকে ভাড়া করে। গত ৭ নভেম্বর রাতে আবুল হাসান ঝাউতলা বাজার থেকে রতনপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরার পথিমধ্যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আঙ্গুর বাহিনীর লোকজন তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা রড দিয়ে পিটিয়ে আবুল হাসানের দুই পা ও ডান হাত ভেঙ্গে দেয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আবুল হাসানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আহতের ছোট ভাই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে আঙ্গুর বাহিনীর প্রধান আঙ্গুর মিয়া, সোহাগ, অপু, হুমায়ুন, হৃদয়, মিলন, জিয়া উদ্দিন, সেলিম, শামীম, রফিকুল ও নূরুল ইসলামের নামোল্লেখ করে থানায় মামলা (নং-১০) করলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি।
করিমগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র মজুমদার আঙ্গুর বাহিনী নামে কোন সন্ত্রাসী বাহিনীই নেই দাবি করে বলেন, ‘আসলে একই এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে গোষ্ঠীগত সমস্যা চলছে। এ কারণেই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’।