| |

ঈশ্বরগঞ্জে ব্র‏হ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ভিঠে হারা অসহায় মানুষ

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্র‏হ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামে ব্র‏হ্মপুত্র নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ওই এলাকায় অধ্যশতাধিক লোকের বসত ভিঠে ঘরবাড়ি শত শত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙ্গনের মুখে অনেক পরিবার তাদেও বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই নদী ভাঙনের ভয়ে ঘরবাড়ি নিয়ে আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় ব্র‏হ্মপুত্র নদের তীরবতী মরিচারচর উত্তরপাড়া এলাকার সুরুজ মিয়া সাবেদ আলী, নেজামুল, এনামুল, শহিদুল ইসলাম,আজিজুল হক, মঞ্জুরুল হক, শফিকুল ইসলাম, কলুমদ্দিন, নূরুন নাহার বেগমের বসত ঘর ও ফসলী জমি গত ৩দিনে ব্র‏হ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে তাদের বসত ঘর বাধার মতো জায়গা জমি পর্যন্ত নেই।
স্থানীয়রা জানায়, গত এক সপ্তাহে ব্র‏হ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙ্গে ওই এলাকার শতশত লোক নদী ভাঙ্গন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বসত ভিঠা ও জমিজমা হারিয়ে সর্বহারা হয়ে সন্তান, পরিবার পরিজন নিয়ে কলিম উদ্দিন ও জাহেদ আলী পৈত্রিক ভিঠা হারিয়ে ঢাকায় চলে গেছেন।
নদী গর্ভে বিলিন হওয়া নূরুন নাহার বেগম(৬৫) জানান, ১৫বছর বয়সে বিয়ে হয়ে স্বামীর ভিঠায় এলাম শেষ বয়সে নদীর ভাঙ্গনে স্বামীর ভিঠা সহ ও পারিবারিক কবরও নদীতে চলে গেলো। ঘর বাধাঁর মতো জায়গাও নেই কি করে বাঁচবো। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, আমার উচাখিলা ইউনিয়নটি ব্র‏হ্মপুত্র নদের বেষ্ট্রনিতে ঘেরা । ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদী ভাঙনে ঘরবাড়ী সহ শতশত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান হিসেবে তিনি জানানান, জিলকির গুদারা ঘাট এলাকা হতে নদীটি ডেসিংএর ব্যবস্থা করা হলে নদী ভাঙন রোধ হতো। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওযায় মরিচারচর ও নতুনচর এলাকায় ব্যাপক ঘর বাড়ি ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মস্তোফা জানান, গত ৩ দিনে তার এলাকায় ১০টি পরিবারের ঘর বাড়ি সহ প্রায় ২০ একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েগেছে। এ বছর বর্ষার শুরু থেকে ব্র‏হ্মপুত্রের ভাঙন দেখাদিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে স্থানীয় ভূক্তভোগীরা জানান।