| |

সিডিউল মোতাবেক পুটিজানা ইউনিয়নে উন্নয়নমুলক কাজ চলছে

মো: আব্দুস ছাত্তার ঃ ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে পুটিজানা ইউনিয়ন একটি। শিক্ষা ও উন্নয়নে পিছিয়ে নেই অত্র ইউনিয়ন। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সিডিউল মোতাবেক কাজে আগ্রহী বিধায় উন্নয়ন জনসম্মুখে দৃশ্যমান হয়েছে বলে মত দেন স্থানীয়রা। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে অত্র ইউনিয়নে সোলার প্যানেল ছাড়াই ইউনিয়নের পরিষদের বরাদ্দে ১৩ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রায় সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় এর সুফল ভোগ করছে অত্র ইউনিয়নের সাধারন জনগন। সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে আজকের প্রতিবেদন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানাযায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (২য় পর্যায়) কর্মসূচীর আওতায় ৯ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পগুলো হলো গাড়াজান মোহাম্মদ মাস্টার বাড়ীর নিকট হতে পন্ডিত বাড়ী হয়ে রামবাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, পাঞ্জানা পাকা রাস্তা হতে হোসেনের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, বেড়িবাড়ী পাকা রাস্তা হতে বড়বাড়ী জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, মৌহাতলা ঈদগাহ মাঠ হতে পাটুলী আনু ডাক্তার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, বড়খিলা ব্রীজ হতে কালারচর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সরাতিয়া নতুন বাজার হতে কাঁচিচুড়া ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট, বিড়ালশাখ নরেন ডাক্তার বাড়ী হতে কমলাপুর আক্কাছ মাস্টার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, কমলাপুর আরমান মেম্বার বাড়ী হতে পীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, দূর্গাপুর মিস্ত্রি বাড়ী হতে কাকোয়ান দোহার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার।
টি.আর প্রকল্প : রসুলপুর জিন্নত আলী-ফকির বাড়ী নিকটে সামাজিক গুরুস্থানে মাটি ভরাট, বৈলাজান আটাপাড়া জামে মসজিদের রাস্তা সংস্কার, বৈলাজান কেন্দ্রীয় কোরবানী মাঠের রাস্তায় মাটি ভরাট মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
কাবিটা প্রকল্প : মৌহাতলা মোতালেবের স মিল হতে মৌহতলা রাজ মামুদ সরকার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৬ মে: টন।
২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এল.জি.এস.পি-৩ খাতে প্রকল্প সাহায্য তহবিল হতে মৌলিক থোক বরাদ্দ হতে ১১ লাখ ৫১ হাজার ২৩৫ টাকার প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়।
পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ওমর ফারুক জানান, রাজনৈতিক কারণে অন্য দল করি তবে উন্নয়নকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই, এমন অনেক রাস্তা আছে যে রাস্তাগুলোতে গত ১০-১৫ বছর যাবত মাটি পড়ে না, সেই রাস্তাগুলোতে মাটি পড়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় মোফাজ্জল নামের এক পথচারী’র মতে, পর্যায়ক্রমে কাজ করলে সব রাস্তাই সংস্কার করা সম্ভব। কাজ করলে নিজেদের লাভটা একটু কম হয় তবে এতে দু’গ্রুপই উপকৃত হয়।
চলতি বছরে প্রকল্পগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার থাকলেও কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা।
কমলাপুর আরমান মেম্বার বাড়ী হতে পীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার এবং দূর্গাপুর মিস্ত্রি বাড়ী হতে কাকোয়ান দোহার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এ নিয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো: বিল্লাল হোসেন এর কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি জানান, বৃষ্টির ফলে দেরিতে কাজ শুরু করলেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে চেয়ারম্যানের কাছে যোগাযোগ করা হয়েছে খুব শীঘ্রই কাজ শেষ করা হবে, ঐ সময় মানুষের আর কোন নিগেটিভ ধারনা থাকবে না।
ইউপি সচিব মো: ইদ্রিস আলী জানান, অতীতের চেয়ে প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা ফিরে আসার ফলে কাজগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। এর সুফল অত্র ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভোগ করবে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার বলেন, আমাকে মানুষ বার বার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে চেয়ারম্যান বানায়। আমি তাদের খাদেম, কাজ করতে ভালবাসি, ভবিষ্যতে মানুষের পাশে থাকতে চাই।
প্রকল্পের কাজ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজ করা ছাড়া কোন উপায় নেই ছোটখাটো ভুল ত্রুটি থাকতে পারে তবে পুরাতন রাস্তা সংস্কার ও নতুন রাস্তা করায় জনগন এর সুফল পাচ্ছে, জনগনই এর বিচার করবে।