| |

গৌরীপুরে মাজারের জমিতে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ॥
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রা.) মাজারের জমি অবৈধভাবে দখল করে জোরপুর্বক দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দখলদার ভূমিদস্যুদের কবল থেকে নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রা.) মাজারের ভূমি উদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মাজার কমিটির সভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান পাঠান আবেদন করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, পাঠানটুলা গ্রামের মর্তুজ আলী শাহ ফকিরের পুত্র মোস্তফা শাহ আলী ফকির, নুরুল ইসলামের পুত্র হোসেন আলী শাহ ফকির, আব্দুল আলী শাহ ফকিরের পুত্র মো. বাবুল মিয়া শাহ ফকিরের নেতৃত্বে রাতের আধাঁরে নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রা.) মাজারের জমিতে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করেন।
মাজার কমিটির সভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, সর্বশেষ মাঠ জরীপে মাজারের নামে ৯৪শতাংশ জমি রেকর্ডভূক্ত রয়েছে। অথচ একটি মহল এ জমি আত্মাসাত করার পায়তারা চালিয়ে আসছে।
সরজমিনে গিয়ে দেয়া যায়, মাজারের জমিতে মৃত কাদির ফকিরের পুত্র মো. আব্দুল হালিম ওরফে ইব্রাহিম ফকির, মো. নুরুল ইসলাম, হাসমত আলী খান পাঠানের পুত্র সাবেক মেম্বার মো. মজলিশ খান পাঠান, মো. মনফর উদ্দিনের পুত্র মো. মিজানুর রহমান, রুস্তম আলীর পুত্র মো. আজিজুল ইসলাম, মো. সুরুজ আলী, আব্দুল কাইয়ুমের পুত্র মো. ইমরান মিয়া, মো. রিয়াজ উদ্দিন ভূইয়ার পুত্র মো. রুকন উদ্দিন ভূইয়া, মৃত লতিফ ফকিরের পুত্র সাবেক মেম্বার মো. ফজলু ফকির, মো. ফজলু মিয়ার পুত্র মো. মাহাবুব রহমান, মৃত নওয়াব আলী ফকিরের পুত্র মো. একরাম ফকিরসহ আরো অনেকের দোকানপাট রয়েছে।
এ দিকে মোস্তফা শাহ আলী ফকির অবৈধ ও জোরপূর্বক জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা আমাদের জমিতেই দোকানপাট নির্মাণ করেছি। পৈত্রিক ওয়ারিশ, সি.এস, আরওআর এবং মাঠজরীপেও আমাদের নামেই রয়েছে। আমাদের বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষগন এ মাজারের খাদেম থাকায় বিআরএস জরীপে মাজার কমিটির পক্ষে খাদেম লিপিবদ্ধ হয়েছে। জরীপের এ ভুল সংশোধনের জন্য ময়মনসিংহ বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রা.) নামানুসারে এ মৌজার নাম হয় নিজামাবাদ। তবে সি.এস ও আরওআর জরীপে এ মাজারের কতটুকু জমি আছে এ বিষয়ে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি মাজার কমিটি। এ প্রসঙ্গে মাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিআরএস ফাইনাল জরিপে মাজারের নামে ৯৪শতাংশ জমি রয়েছে। সেটা উদ্ধারের জন্য দরখাস্ত দেয়া হয়েছে। অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে আব্দুল হালিম ওরফে ইব্রাহিম ফকির ও মোঃ নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বাবুল ফকির তাদের সম্পত্তিতে জোরপূর্বক ঘর উত্তোলন করছে। প্রায় ৬০বছর মাজারের খাদেম হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী আব্দুল আলী শাহ ফকির (৯৫) বলেন, এ জমি আমাদের।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।###