| |

হালুয়াঘাট থানায় টাকা ছাড়াই মিলছে পুলিশী সেবা

জোটন চন্দ্র ঘোষ,হালুয়াঘাট : অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,পাল্টে গেছে হালুয়াঘাট থানার দৃশ্যপট। কোন প্রকার টাকা ছাড়াই সকল ধরনের পুলিশী সেবা মিলছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায়। সেবা নিতে আসা জনসাধারন জিডি, অভিযোগ ও মামলা লেখাতে বা অন্তর্ভূক্ত করতে এলে কোন রকম টাকা দিতে হয়না সর্বসাধারণের। আর এমনই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, সম্প্রতি যোগদানকৃত থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের বলিষ্ঠ ভুমিকার কারনে। পুলিশ যে টাকা ছাড়া কাজ করে, এমন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। এতে সহকর্মীদের কাছে কিছুটা বিরক্তির কারণ হলেও আইনগত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছে ইতোমধ্যেই বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বর্তমান সরকারের সময়ে এমনটিই আশা করছিলেন উপজেলার আপামর জনসাধারণ পুলিশের নিকট।
জানা গেছে, ইতোপূর্বে থানায় একটি জিডি লিখতে লেখককে দিতে হতো ১শ’ টাকা। ওই জিডি অন্তর্ভূক্ত করতে ডিউটি অফিসারকে দিতে হতো কমপক্ষে ৫শ’ টাকা। অভিযোগ লিখতে ২০০/৩০০ টাকা, লিখিত অভিযোগটি অফিসার ইনচার্জের অনুমতি সাপেক্ষে কোন এসআই কে দায়িত্ব দেয়াতে দিতে হতো কমপক্ষে ২ হাজার টাকা। মামলা রেকর্ড করাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। বর্তমান অফিসার ইনচার্জ হালুয়াঘাট থানায় দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে কোন রকম টাকা পয়সা দিতে হচ্ছে না সেবা নিতে আসা ভূক্তভোগীদের। এছাড়াও থানা দালালমূক্ত করার সবসময় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার পিপিএম।
একাদিক ভূক্তভোগীব্যক্তি জানান, অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে এবং ওসিকে অবহিত করলে মনোযোগ সহকারে তিনি ভুক্তভোগীদের কথা শুনে অভিযোগ লিখে নিয়ে আসতে বলেন। থানার ডিউটিরত অফিসার কথামত অভিযোগ লিখে দেন। লেখার জন্য টাকা দিতে চাইলে অভিযোগের জন্য কোন টাকা পয়সা লাগেনা। অভিযোগ দাখিলের পর তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করেন। ওসি স্যারকে কিছু সম্মানী দিতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের সেবা দেয়ার জন্য সরকার আমাকে বেতন দেন। আপনার সম্মানী দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
উপজেলার কৈলাটি গ্রামের বিজন বসু ওরফে বাচ্চু বসু জানান, তার ১৩ বছরের কন্যা গোয়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী যথা বসুকে গত ৩০ জুন শনিবার সন্ধায় একই গ্রামের প্রতিবেশী আবু তাহের মন্ডল এর পুত্র ফরহাদ(২২) সহ অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেন। অপহরণের ১১ দিনপর হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ১১ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার আদাবর নামক স্থান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি অপহরণকারী ফরহাদ ও স্বপন মন্ডল নামক দুই জনকে আটক করেন। এ ঘটনায় তিনি পুলিশকে একটি পয়সাও দেন নি। মেয়েটিকে দ্রুত সময়ে উদ্বার করার জন্য পুলিশের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।