| |

ফুলপুরে আসামি পরিবারের ১০ বাড়ির সর্বস্ব লুটে নেয়ার অভিযোগ

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে পুলিশী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শ্রমিক হত্যা মামলার আসামি পরিবারের ১০ বাড়ির সর্বস্ব দুর্বৃত্তদের লুটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিনের বোর জমির ধান কাটা নিয়ে পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের শ্রমিক নুরুল ইসলাম আবুর পরিবারের বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে গত ১৫ মে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে শ্রমিক নুরুল ইসলাম আবুর ছেলে এমদাদুল হকের মৃত্যু ঘটে। এর পরপরই গ্রেফতার আতংকে কৃষক পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এ সুযোগে আশপাশের দুর্বৃত্তদল আসামিদের বাড়ি থেকে ৪৮ টি গরুসহ অসংখ্য মালামাল লুটে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল গিয়ে লুটতরাজে বাঁধা প্রদান করে ১০ টি গরুসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করেন। পরে আসামিদের বাড়ি ঘর স্থানীয় ২ জন চৌকিদারের হেফাজতে রেখে আসেন।
তারপরও দুর্বৃত্তদল বিভিন্ন সময়ে ১০ বাড়ির ১৮ টি আসামি পরিবারের ৩৮ টি গরু, প্রায় ৩ হাজার মন ধান, ৮ টি ফিসারীর মাছসহ ঘরের সমুদয় মালামাল লুটে নিয়ে যায়। এদের লুটের হাত থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির দলিল, টিউবওয়েল, অনেক ঘরের চালের ছাউনী, এমনকি জমির ফসল ও গাছের ফলও রক্ষা পায়নি। এতে এসব বাড়ির অর্ধশত ঘর মালামাল শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হত্যা মামলার ২২ আসামির মধ্যে ১৬ জন প্রায় ২০ দিন আগে জামিন লাভ করলেও এখনও বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
জামিনে আসা আসামী আবুল হোসেন ও আব্দুস ছালাম জানান, আমাদের বাড়ি থেকে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, ধান, ফিসারীর মাছ ও মালামালসহ প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়েছে। আসামি স্বপন ও আইয়ুব আলী জানান, বাদির আত্মীয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুরুজ আলী, ইসলাম, বাক্কার, জনাব আলী, নুরজাহান, জুয়েল, রাহুল, আলামিন, চৌকিদার জয়নাল ও তার ছেলে হেলালসহ অনেকে মালামাল লুট করে নিয়েছে। আমাদেরসহ আত্মীয় স্বজনদেরও বাড়িতে যেতে বাধা নিষেধ করেছে। তবে অভিযুক্তরা এসব লুটপাট ও বাধা নিষেদের কথা অস্বীকার করেছেন। নিহত এমদাদের স্ত্রী ও বাবা জানান, আমরা লুটের মালামাল চাই না। আমরা বিচার চাই।
আসামি আবুল কাশেম জানান, লুটপাটে মালামাল শূন্য বাড়িতে এসে কি করব। মালামাল জোগার করে পরে বাড়ি ফিরতে হবে।
আসামি জামাল উদ্দিন দুঃখ করে বলেন, যাদের লোক মরেছে তারা সব মালামাল নিলেও এত কষ্ট পেতাম না। অন্যরা কেন আমাদের মালামাল লুট করল। এসব লুটপাটকারীরাই ষড়যন্ত্র করে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ সুমন মিয়া জানান, ১০ টি গরুসহ প্রায় ৫০০ মন ধান উদ্ধার করে দিয়েছি। আসামীর আত্মীয় স্বজনরাও অনেক মালামাল নিয়েছে।
ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মাহবুব আলম জানান, লুটপাটের অভিযোগ পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।